গন্তব্যের দিকে ছুটছে একটি ঠাসা ট্রেন। কেউ জানালার ধারে বসে আছেন, কেউ আবার দাঁড়িয়ে ঝাঁকুনির সঙ্গে মানিয়ে চলাফেরা করছে। এমন চেনা দৃশ্যেই আচমকা ধাক্কা দিল এক অচেনা ছবি—সবার সামনে বসেই এক যুবতীকে চুমু খাচ্ছেন এক মাঝবয়সি ব্যক্তি। একাধিক যাত্রীর চোখের সামনে ঘটে চলেছে ঘটনাটি, আর তা-ই ধরা পড়েছে অন্য এক যাত্রীর মোবাইল ক্যামেরায়। ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে বিতর্কের ঝড়।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিয়োতে দেখা যায়, ট্রেনের আসনে বসে আছেন একজন মাঝবয়সি পুরুষ। তাঁর পাশেই বসে রয়েছেন বয়সে অনেক ছোট এক তরুণী। ট্রেন ঠাসা ভিড়ে ভর্তি হলেও তাঁদের আদরে কোনও ভাঁটা নেই। জনসমক্ষে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে একাধিকবার চুমু খেতে দেখা যায় ওই ব্যক্তিকে। মাঝে মাঝে হাত দিয়ে মুখ আড়াল করার চেষ্টা করলেও চোখে পড়ে যায় তাঁদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত। আশেপাশে যাত্রীদের উপস্থিতি যেন উপেক্ষাই করে যাচ্ছেন তাঁরা।
এই ভিডিয়োটি এক সাংবাদিক, মনোজ শর্মা, তাঁর এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করেন। ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়তেই ঝড় ওঠে নেটপাড়ায়। একের পর এক কটাক্ষে বিদ্ধ হয় ওই যুগল। অনেকেই তাঁদের আচরণকে ‘নির্লজ্জ’ এবং ‘অশালীন’ বলে উল্লেখ করেন। কেউ কেউ আবার কটাক্ষ করে লেখেন, “পাশের যাত্রীরা চোখ রাখবেন কোথায়?” অনেকেই রেল কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন, ওই যুগলের খোঁজ নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
একাংশের বক্তব্য, এই ধরনের আচরণ জনসমক্ষে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ লিখেছেন, “এ ধরনের উদাহরণ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে কী বার্তা দিচ্ছে?” অন্য এক জনের মত, “এইরকম ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত যদি জনসমক্ষে স্বাভাবিক হয়ে যায়, তা হলে সমাজ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?” ভিডিয়োটি নিয়ে শুরু হয়েছে নীতিগত আলোচনাও—জনপরিসরে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ‘সীমারেখা’ ঠিক কোথায়, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
আরও পড়ুনঃ Santanu sen : দলেই দলবিরোধী হামলার অভিযোগ! সিঁথিতে উত্তপ্ত রাত, কাউন্সিলরের স্বামী শান্তনুর বাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ তৃণমূল কর্মীদের!
যদিও এই ভিডিয়োটি কবে এবং কোথায় ধারণ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। ভিডিওর উৎসও নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায়নি। ফলে, ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। খবর ২৪*৭ এই ভিডিয়োর তথ্যের স্বততা যাচাই করেনি। তবে এই ভিডিও যে অনলাইনে এক বিস্তৃত আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। জনপরিসরে আচরণ নিয়ে এই ঘটনা ফের একবার প্রশ্ন তুলল, কোথায় টানা হবে সামাজিক শালীনতার সীমারেখা?





