‘বন্ধু’ পুলিশ! দেরি হয়ে যাওয়ায় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে গ্রিন করিডর করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিলেন ওসি, খুশির হাসি আশিকার মুখে

যে কোনও পড়ুয়ার জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা হল মাধ্যামিক। কাজেই সেই পরীক্ষার গুরুত্ব যে ঠিক কতখানি, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই কারণে সময়মতো পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছনোটা খুবই জরুরি। সময়মতো এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে এগিয়ে এলেন এক পুলিশ আধিকারিক। পুলিশের গাড়ি করেই ওই পরীক্ষার্থীকে পৌঁছে দিলেন পরীক্ষাকেন্দ্রে।

বড়বাজারের রাজা কাটরার বাসিন্দা আশিকা সিংহ। গত শনিবার পোস্তার রাস্তায় স্কুল ইউনিফর্ম পরে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরছিল সে। বিষয়টি নজরে আসে ট্র্যাফিক গার্ডের ওসি সৌভিক চক্রবর্তীর। ওই ছাত্রীকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় যে সে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে। তার পরীক্ষা কেন্দ্র শ্যামবাজারের আদর্শ নিকেতন। কিন্তু সময়মতো বাস না পাওয়ায় দেরি হয়ে যাচ্ছিল তার।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে নিজের সরকারি গাড়িতেই আশিকাকে তুলে নেন সৌভিক। গ্রিন করিডর করে বড়বাজার থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত ওই পড়ুয়াকে পৌঁছে দেন তিনি। পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছয় আশিকা। পুলিশের এই ভূমিকায় খুব খুশি সে।

জানা গিয়েছে, বড়বাজারের রাজা কাটরার এক চিলতে ঘরে থাকে আশিকা। বাবা মারা গিয়েছেন। দাদু মারা যাওয়ার কারণে মা এবং দাদা গিয়েছেন দেশের বাড়িতে। বাড়িতে একাই রয়েছে অশিকা। পরীক্ষার দিনও সঙ্গে কেউ ছিল না তার। শনিবার ছিল ইংরেজি পরীক্ষা। পুলিশের এই সাহায্য পেয়ে অনেক আত্মবিশ্বাসী আশিকা। সে জানায়, নিজেকে অনেক বেশি সুরক্ষিত মনে হয়েছে। এরপর থেকে পুলিশকে বন্ধু বলে ভাবতে পারবে সে।

ওসি সৌভিকের কথায়, তিনি আশিকাকে বিপদের মধ্যে সাহায্য করতে পেরে বেশ খুশি। তাকে সময়মতো নির্দিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট জায়গায় যোগাযোগ করে সিগন্যাল সবুজ করার ব্যবস্থা করেন সৌভিক। এর ফলে সঠিক সময়ে পৌঁছতে কোনও সমস্যা হয়নি।

RELATED Articles