আলোয় অন্ধকারের জয়, শুভর জয়—এই বার্তাকেই সামনে রেখে হোয়াইট হাউসে দীপাবলি উদযাপন করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আলোর উৎসবে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, দীপাবলি হলো জ্ঞান ও শুভবুদ্ধির প্রতীক। এই উৎসবের আবহেই ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
দীপাবলি উদযাপনের পর ওভাল অফিসে সাংবাদিক বৈঠকে ভারতীয়দের উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁর ভাষায়, “আমাদের মধ্যে দারুণ আলোচনা হয়েছে। তিনি একজন মহান ব্যক্তি, ধীরে ধীরে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে উঠেছেন।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, রাজনৈতিক কূটনীতির মাঝেও দুই রাষ্ট্রনেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কের উষ্ণতা অটুট রয়েছে।
যদিও ট্রাম্পের বক্তব্যের অন্তর্নিহিত ইঙ্গিত একটাই—আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘বাণিজ্য’। প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমাদের মধ্যে অনেক বিষয়ে কথা হয়েছে, তবে বাণিজ্য নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছে।” মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে ভারতের শুল্ক-নীতি নিয়ে টানাপোড়েন চলছেই। এই প্রেক্ষিতে ট্রাম্পের মন্তব্যকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁকে নাকি আশ্বস্ত করেছেন যে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। কিন্তু ভারত সেই পথে হাঁটেনি। ফলত, ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে। এই সিদ্ধান্তে নয়াদিল্লি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, কারণ ট্রাম্পের আমলেই রাশিয়া ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ Har*assment : সরকারি হাসপাতালের ভিতরেই নারী চিকিৎসক নির্যাতিত! কর্তব্যরত অবস্থায় হোমগার্ডের হাতে মারধর ও ধর্ষ*ণের হুমকিতে তোলপাড় এলাকা!
দীপাবলির মঞ্চে ট্রাম্পের উপস্থিতি যেমন ভারতীয়-আমেরিকানদের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক, তেমনই তাঁর মন্তব্যে লুকিয়ে রয়েছে কূটনৈতিক বার্তাও। একদিকে বন্ধুত্বের সুর, অন্যদিকে বাণিজ্যের চাপ—দুইয়ের মিশ্রণেই স্পষ্ট হচ্ছে ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশল। আপাতত নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও, হোয়াইট হাউসের দীপাবলি উদযাপন ঘিরে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের সমীকরণ যে নতুন দিক নিচ্ছে, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





