নির্বাচনের আগে বাজেট মানেই শুধু হিসেবের খাতা নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক সমীকরণ আর ভবিষ্যতের ইঙ্গিত। ঠিক সেই আবহেই আজ বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের শেষ বাজেট—ভোট অন অ্যাকাউন্ট। কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে তৃণমূলের তীব্র আপত্তির পর স্বাভাবিকভাবেই নজর ঘুরে গিয়েছে রাজ্য বাজেটের দিকে। প্রশ্ন একটাই—ভোটের মুখে বাংলার মানুষের জন্য কী বার্তা দিতে চলেছে রাজ্য সরকার?
বাজেট পেশের আগেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। কারণ, বিধানসভা ভোট আর বেশি দূরে নয়। আজ দুপুর সাড়ে বারোটায় রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বক্তব্যের পরই বাজেট সংক্রান্ত আলোচনা শুরু হবে। যেহেতু এটি ভোটের আগে শেষ বাজেট, তাই একে ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট’ বলা হচ্ছে। কেন্দ্রের বাজেটকে ‘বেসলেস’ ও ‘বাংলা-বিরোধী’ বলে কটাক্ষ করার পর এবার রাজ্যের বাজেটে তৃণমূল কীভাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ—সকলেই।
এই বাজেটকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে। রাজ্যের মহিলা ভোটাররা যে তৃণমূলের বড় ভরসা, তা আর নতুন করে বলার নয়। একুশের বিধানসভা ভোটের আগে এই প্রকল্প চালু করে রাজনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক খেলেছিল রাজ্য সরকার। পরবর্তী সময়ে লোকসভা ভোটের আগে প্রকল্পের আর্থিক সাহায্য বাড়ানো হয়। বর্তমানে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বরাদ্দ প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা। এবার প্রশ্ন উঠছে—এই বরাদ্দ কি আরও বাড়বে? বাড়লেও কতটা বাড়তে পারে? সরকারি মহলে স্পষ্ট ইঙ্গিত না মিললেও ভোটের আগে এই প্রকল্পে কোনও ‘চমক’ থাকতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।
তবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারই একমাত্র আলোচ্য বিষয় নয়। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ মামলার রায় আজই সুপ্রিম কোর্টে হতে পারে, ফলে সেই দিকেও নজর রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ডিএ নিয়ে অসন্তোষ চলছে। পাশাপাশি আশা কর্মীরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছেন আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগ তুলে। তাঁদের দাবির কোনও প্রতিফলন কি বাজেটে দেখা যাবে? একই সঙ্গে সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভাতা বাড়ানো নিয়েও জল্পনা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের ভাতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
আরও পড়ুনঃ DA Breaking : “এখনই ২৫% ডিএ দিতে হবে”, রাজ্যকে কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, মার্চের মধ্যেই মেটাতে হবে বকেয়া!
সব মিলিয়ে আজকের বাজেট শুধু হিসেবের অঙ্ক নয়, বরং ভোটের আগে সরকারের রাজনৈতিক বার্তা। সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প, কর্মচারীদের দাবি, মাঠে থাকা কর্মীদের অসন্তোষ—সব কিছুর মাঝেই ভারসাম্য রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে ডিএ কিংবা সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভাতা—কোথায় কতটা বরাদ্দ বাড়ে, সেদিকেই তাকিয়ে বাংলা। এই বাজেটই অনেকটা ইঙ্গিত দেবে, ভোটের আগে তৃণমূল সরকার সাধারণ মানুষের মন বুঝতে কতটা প্রস্তুত।





