বাজেট পেশের দিন মানেই বিধানসভা চত্বরে এক আলাদা উত্তেজনা। রাজনৈতিক হিসাব–নিকাশ, কৌশল আর বাক্যবাণে এমন দিনগুলো প্রায়ই সরগরম হয়ে ওঠে। এদিনও তার ব্যতিক্রম হল না। রাজ্য বাজেট পেশের ঠিক আগেই বিধানসভা ভবনের ভেতরে ও বাইরে টানটান পরিস্থিতি তৈরি হয়। স্লোগান, পাল্টা স্লোগান আর রাজনৈতিক বার্তায় শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল, আজকের দিনটা শুধুই বাজেটের নয়, বরং বড় কোনও রাজনৈতিক বার্তার মঞ্চ হতে চলেছে।
বাজেট পেশের প্রথা অনুযায়ী ঠিক সাড়ে বারোটার সময় বিধানসভায় ভাষণ দিতে আসেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। কিন্তু সেই ভাষণই মুহূর্তের মধ্যে তৈরি করে দেয় বিতর্ক। মাত্র সাড়ে চার মিনিট বক্তব্য রাখার পরই সবাইকে নমস্কার জানিয়ে কক্ষত্যাগ করেন তিনি। সাধারণত দীর্ঘ রাজ্যপাল ভাষণের জন্য প্রস্তুত থাকা বিধানসভায় এই সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি চমকে দেয় অনেককেই। এর মধ্যেই জাতীয় সঙ্গীত শেষ হতেই বিজেপি বিধায়কদের ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান এবং পাল্টা তৃণমূল বিধায়কদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে সভাকক্ষ।
এই সংক্ষিপ্ত ভাষণকে ঘিরেই রাজনৈতিক বিতর্কে ঘি ঢালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকারের তৈরি করা ভাষণে কিছু অসত্য তথ্য ছিল, যা পড়তে রাজ্যপাল রাজি হননি। বিশেষ করে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ সাহায্য না করার অভিযোগের অংশটি রাজ্যপাল ইচ্ছাকৃতভাবে উচ্চারণ করেননি বলেই দাবি শুভেন্দুর। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্র সাহায্য করেনি—এই দাবি তথ্যগতভাবে ঠিক নয়, এবং সেই কারণেই রাজ্যপাল শুধু ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ শব্দ উচ্চারণ করেই ভাষণ শেষ করেন।
শুভেন্দু অধিকারীর আরও দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে রাজ্যপালকে সম্পূর্ণ ভাষণ পড়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু রাজ্যপাল সেই অনুরোধ মানেননি। এই সিদ্ধান্তের জন্যই তিনি হাততালি দিয়ে রাজ্যপালকে অভিনন্দন জানান বলে জানান বিরোধী দলনেতা। বিজেপি বিধায়কদের একাংশের মতে, এই ঘটনার মাধ্যমে রাজ্য সরকার রাজ্যপালকে দিয়ে কেন্দ্র-বিরোধী মন্তব্য করাতে ব্যর্থ হয়েছে, যা সরকারের রাজনৈতিক ব্যর্থতারই প্রমাণ।
আরও পড়ুনঃ Bengal Budget 2026: শেষ বাজেটেই বড় ঘোষণা? লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, ডিএ আর সিভিক ভাতা—কাদের দিকে বাড়ছে সরকারের নজর!
অন্যদিকে, সরকার পক্ষ এই বিতর্ককে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাদের দাবি, রাজ্যপাল সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিয়ে কক্ষত্যাগ করার ঘটনা নতুন নয়, আগেও বহুবার এমন হয়েছে। ফলে একে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা অযৌক্তিক। তবে বাস্তবে যা-ই হোক, রাজ্যপালের সাড়ে চার মিনিটের ভাষণই বাজেট পেশের আগেই বিধানসভাকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। এরপর এসআইআর নিয়ে প্রস্তাব, আলোচনা এবং দুপুর আড়াইটা নাগাদ বাজেট পেশ—সব মিলিয়ে প্রথম ধাপেই রাজ্য রাজনীতির পারদ যে বেশ চড়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।





