কলকাতার এক প্রান্তে ভোরের নীরবতা ভেঙে হঠাৎই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক আর শোকের ছায়া। ঘরের ভিতর ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনার অভিঘাতে স্তব্ধ হয়ে যায় আশপাশের মানুষজন। পরিবারের অন্দরেই যে এমন হাড়হিম করা পরিণতি অপেক্ষা করছিল, তা যেন কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।
ঘটনাটি ঘটেছে কসবা এলাকার বোসপুকুর রোডে। রবিবার ভোর প্রায় ৪টে নাগাদ স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে স্বামীর বিরুদ্ধে। মৃত মহিলার নাম স্বপ্না সিং (৪২)। এই ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। যদিও পুলিশ ঘটনাটির খবর পায় সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ, তখন পর্যন্ত অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গুরুতর জখম অবস্থায় স্বপ্না সিংকে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল-এ। সেখানে পৌঁছনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপরই গোটা ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করে কসবা থানার পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেই ঘটনার সূত্র খোঁজার চেষ্টা করা হয়।
তদন্তে বড় সূত্র দেয় মৃতার কিশোরী মেয়ে। তার বয়ান অনুযায়ী, ভোরবেলায় বাবা-মায়ের মধ্যে বচসা শুরু হয়। সেই তর্কাতর্কি আচমকাই ভয়াবহ মোড় নেয়। অভিযোগ, রাগের মাথায় বাবা ধারালো ছুরি দিয়ে মায়ের উপর আক্রমণ করেন। চোখের সামনে মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে আতঙ্কে চিৎকার শুরু করে মেয়েটি। তার চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন।
আরও পড়ুনঃ কাশ্মীর এবং মণিপুর থেকে ২০০ কোম্পানি বাহিনী বাংলায়! বুধে নামবেন ৩০,০০০ জওয়ান, ভোটের আগেই কড়া নিরাপত্তা! তবে কি বড় অশা*ন্তির আশঙ্কা করছে কমিশন?
তবে শেষরক্ষা হয়নি। পরিবারের এক সদস্যের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত বিনোদ সিংকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কী কারণে এই চরম পদক্ষেপ, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেশীদের অনেকেই জানিয়েছেন, দম্পতির মধ্যে মাঝেমধ্যেই অশান্তি হতো, তবে এমন পরিণতি কেউ ভাবতে পারেননি। এখন প্রশ্ন উঠছে, পারিবারিক কলহ কীভাবে এতটা ভয়াবহ রূপ নিল, তার উত্তর খুঁজতেই তদন্তে নেমেছে পুলিশ।





