Workers Protest: “১৫ হাজার টাকা মাসিক চাই”—আট দফা দাবিতে স্বাস্থ্য ভবন অভিযান, ট্রেনে উঠতেই পুলিশি বাধা, শিয়ালদহে উত্তাল আশা কর্মীদের বিক্ষোভ!

রাজ্যের প্রান্ত থেকে রাজধানীর দিকে পা বাড়ালেই কি বাধা? বুধবার স্বাস্থ্য ভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে ঠিক এমনই প্রশ্নের মুখে পড়েছেন আশা কর্মীরা। ভোরের ট্রেন ধরেই কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু শহরে পৌঁছনোর আগেই একাধিক স্টেশনে তাঁদের যাত্রাপথ থামিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কোথাও ট্রেনে উঠতে দেওয়া হয়নি, আবার কোথাও পৌঁছে স্টেশন ছাড়ার অনুমতি মেলেনি। ফলে সকাল থেকেই শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে তৈরি হয় উত্তেজনার পরিবেশ।

২১ জানুয়ারি প্রশাসনের তরফে আলোচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি আশা কর্মীদের। সেই আলোচনা হলেও কেন পরদিন এইভাবে আটকানো হচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। মালদহ, বেলদা-সহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কর্মীদের অভিযোগ, রাজ্য পুলিশের বাধার মুখে পড়ে অনেকেই মাঝপথেই আটকে যান। যাঁরা কোনওভাবে শিয়ালদহ পৌঁছন, তাঁদেরও স্টেশনের মধ্যেই আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ ওঠে জিআরপি-র বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদেই স্টেশনের ভিতরেই অবস্থান-বিক্ষোভে বসেন তাঁরা।

আসলে এই ক্ষোভের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের জমে থাকা অসন্তোষ। গত সপ্তাহেই বেতনবৃদ্ধি-সহ মোট আট দফা দাবিতে স্বাস্থ্য ভবন অভিযান করেছিলেন আশা কর্মীরা। তখন দুপুরের ব্যস্ত সময়ে কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল স্বাস্থ্য ভবন চত্বর। একাধিক দায়িত্ব সামলেও মাসিক আয়ের অঙ্ক অত্যন্ত কম—এই অভিযোগই আন্দোলনের কেন্দ্রে। আশা কর্মীদের দাবি, বর্তমানে ইনসেনটিভ মিলিয়ে তাঁদের মাসিক আয় সর্বোচ্চ ৫,২৫০ টাকার বেশি নয়, অথচ কাজের চাপ বেড়েছে বহুগুণ।

এই পরিস্থিতিতে ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা মাসিক পারিশ্রমিক, স্বাস্থ্যবিমা, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও মৃত্যুকালীন ক্ষতিপূরণের দাবিতে তাঁরা ফের পথে নামছেন। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, একদিকে সরকার তাঁদের ব্রেস্ট ফিডিং নিয়ে সচেতনতার দায়িত্ব দেয়, অন্যদিকে নিজেরাই মাতৃত্বকালীন ছুটির অধিকার পান না। কর্মরত অবস্থায় কারও মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারও কোনও আর্থিক সহায়তা পায় না—এই বৈষম্যই আন্দোলনকে আরও তীব্র করেছে।

আরও পড়ুনঃ Sonajhuri Haat : সোনাঝুরি হাট কি বন্ধের পথে? পরিবেশ আদালতের রায়ে ঝুলছে শান্তিনিকেতনের প্রাণকেন্দ্র!

এরই মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায় হিঙ্গলগঞ্জেও। স্বাস্থ্য ভবনের উদ্দেশে রওনা দেওয়া একটি দলের সদস্য, প্রতিবাদী মুখ চৈতালি সর্দারকে মাঝপথে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। কোনও কারণ না দেখিয়ে এই আটক, দাবি সহকর্মীদের। এর প্রতিবাদে হিঙ্গলগঞ্জ থানার সামনে অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করেন আশা কর্মীরা। তাঁদের সাফ বার্তা—“লড়ব, মরব। কিন্তু যাবই।” পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে স্বাস্থ্য ভবন চত্বরে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা, বসানো হয়েছে ব্যারিকেড। তবে তাতে আন্দোলনের তেজ কমেনি বলেই স্পষ্ট।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles