কয়েক সপ্তাহ ধরে কৃষ্ণনগর শহরের মানুষ কার্যত পাননি পুর পরিষেবা। কোথাও ভাঙা রাস্তা সারানোর উদ্যোগ নেই, কোথাও আবার পানীয় জলের চরম অভাব। নিকাশি সমস্যাও প্রকট। চারদিকে ছড়িয়েছে অসন্তোষ, আর তারই মাঝে উঠে আসছে পুর প্রশাসনের অচলাবস্থার কথা। সাধারণ নাগরিকেরা ক্ষুব্ধ, কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—এর পেছনের দায় কার?
সূত্র অনুযায়ী, কৃষ্ণনগর পুরসভায় গত কয়েক মাস ধরে কার্যত সবরকম পরিষেবা থমকে দাঁড়িয়ে। নাগরিক পরিষেবা প্রায় বন্ধ, বহু এলাকায় রাস্তা সংস্কারের কাজ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে। নিকাশি ব্যবস্থা বিপর্যস্ত, পানীয় জল সরবরাহেও গড়িমসি চলছে। প্রশাসনিক এই অচলাবস্থার জেরে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অথচ এই সময়ে পুরসভার কাউন্সিলরদের ভূমিকা ঘিরে দেখা যাচ্ছে চরম গাফিলতির ছবি।
পরিষেবা বন্ধ থাকার পেছনে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েনকেই দায়ী করছেন অনেকে। জানা গিয়েছে, তৃণমূলেরই ১৩ জন কাউন্সিলর সম্প্রতি পুরসভার চেয়ারপার্সন রীতা দাসের অপসারণ চেয়ে তলবি সভা ডাকেন। সেই সভায় আরও এক কংগ্রেস ও এক নির্দল কাউন্সিলরও অনাস্থায় সায় দেন। অর্থাৎ কার্যত সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে। এই বিরোধের জেরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। অভিযোগের ভিত্তিতে কৃষ্ণনগর পুরসভার মোট ২৪ জন কাউন্সিলরকে শোকজ করা হয়। নোটিশে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, পরিষেবা বন্ধের জন্য কারা দায়ী এবং কেন নিয়মিত পরিষেবা দেওয়া যাচ্ছে না। নির্দেশে বলা হয়েছে, সাত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে উত্তর দিতে হবে। নচেত, কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দফতর।
শোকজের ঘটনাটি সামনে আসতেই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শাসক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলই কি এই অচলাবস্থার কারণ? জনস্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ক্ষমতার দ্বন্দ্বই কি বড় হয়ে উঠছে পুর প্রশাসনে? এই প্রশ্ন এখন জোরালো। পুরবাসীরা চাইছেন পরিষেবা ফিরুক, প্রশাসন সচল হোক। কিন্তু তার আগে সমাধান দরকার রাজনৈতিক টানাপোড়েনের। এখন দেখার, শোকজের জবাবে কী দেন ওই ২৪ কাউন্সিলর এবং প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়।