রাজনৈতিক মহলে আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে তৃণমূল নেতা ও সাংবাদিক কুণাল ঘোষ। রাজনীতি ও সাংবাদিকতা— দুই দিকেই তিনি পরিচিত মুখ, তবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত সারদা চিটফান্ড মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে। এবার সেই কুণাল ঘোষ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে লন্ডন সফরে যাচ্ছেন, আর তা নিয়ে আদালতে উঠল বড় প্রশ্ন— বিদেশ সফরের খরচ আসছে কোথা থেকে? এই প্রশ্ন শুধু আদালতের নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি করেছে। একজন অভিযুক্ত, যার পাসপোর্ট পর্যন্ত আদালতের কাছে জমা ছিল, তিনি কীভাবে বিদেশ যাচ্ছেন?
সাধারণ মানুষ যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামবৃদ্ধিতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন রাজনীতিবিদদের বিলাসবহুল বিদেশ সফর নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক তৈরি হয়। তাছাড়া, সারদা মামলায় কুণাল ঘোষের নাম জড়িত থাকায় বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর। তাঁর বিদেশ সফর কি শুধুই সাংবাদিকতার কারণে? নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ আছে? এই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
এই সফর সহজ ছিল না কুণাল ঘোষের জন্য। কারণ, সারদা কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত হওয়ায় আদালতে তাঁর পাসপোর্ট জমা ছিল। তাই বিদেশ যাওয়ার জন্য আদালতের অনুমতির প্রয়োজন পড়ে। কুণালের আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং একজন সাংবাদিক হিসেবে লন্ডনে যাচ্ছেন। তাঁর দাবি, একটি নির্দিষ্ট সংবাদপত্রের তরফে প্রতিনিধি হিসেবেই তাঁকে পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু আদালত সরাসরি অনুমতি না দিয়ে বলেন, প্রমাণ দিতে হবে যে এই সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্য সাংবাদিকতাই।
আরও পড়ুনঃ বিজেপির সভাপতি পদে ফের দিলীপ ঘোষ? দলের অন্দরে শুরু রাজনৈতিক মহাযুদ্ধ!
অবশেষে, আদালত নির্দিষ্ট শর্তে কুণাল ঘোষকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয়। তবে সেই অনুমতির সঙ্গেই উঠে আসে আরও বড় প্রশ্ন— এই সফরের খরচ কীভাবে বহন করা হচ্ছে? যেহেতু কুণাল ঘোষ সারদা মামলায় অভিযুক্ত, তাই আদালত জানতে চায়, তাঁর বিদেশ যাত্রার জন্য টাকা কোথা থেকে আসছে। আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ তাঁকে ৫ লক্ষ টাকা জমা রাখার নির্দেশ দিয়েছে এবং স্পষ্ট করেছে যে ২১ থেকে ৩০ মার্চের মধ্যেই তাঁকে ফিরতে হবে। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের বেশি তিনি বিদেশে থাকতে পারবেন না।
এই প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। কুণাল ঘোষ কি তাঁর অর্থের উৎস আদালতে খোলসা করবেন? নাকি এই বিতর্ক আরও গভীর হবে? তাঁর এই সফরের পেছনে কি সত্যিই শুধুমাত্র সাংবাদিকতার কারণ রয়েছে? নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে? আদালতের প্রশ্নের পাশাপাশি, এখন গোটা রাজ্যের নজর এই বিষয়ে কুণালের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।





