আর জি কর কাণ্ডে প্রথম থেকেই বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে কলকাতা পুলিশ। নানান দিকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের পদত্যাগের দাবীও উঠেছে। সেই দাবীতে লালবাজার অভিযানও করেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। এবার এক বড় বিপাকে পড়লেন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় ও পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল। তাদের বিরুদ্ধে এবার চিঠি গেল সিবিআইয়ের কাছে।
বিনীত গোয়েলের পদত্যাগের দাবীতে গত সোমবার লালবাজার অভিযান করেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। ২২ ঘণ্টা অবস্থান বিক্ষোভের পর অবশেষে চিকিৎসকদের প্রতিনিধি দল বিনীত গোয়েলের সঙ্গে দেখা করে তাঁর পদত্যাগের ডেপুটেশন তাঁরই হাতে তুলে দেন। পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগের দাবীতে জনস্বার্থ মামলা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টেও। আর জি কর কাণ্ডে ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও বারবার উঠেছে প্রশ্ন। এবার পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাতো ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়-সহ জড়িত পুলিশ আধিকারিকদের গ্রেফতার ও তদন্তের আওতায় আনারদাবি জানিয়ে চিঠি দিলেন সিবিআই ডিরেক্টরকে।
বিজেপি সাংসদের দাবী, পুলিশ আর জি করের ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তাছাড়া ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাও যথেষ্ট সন্দেহজনক বলে দাবী করেন তিনি। এছাড়াও বঙ্গ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিনীত গোয়েলকে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। কামদুনির প্রসঙ্গ টেনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে এই চিঠিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে খবর।
বলে রাখি, আর জি করের ঘটনায় প্রথম থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও বিনীত গোয়েল বারবার পুলিশের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ রাখার জন্য ব্যাট ধরেছেন। নানান সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে তিনি বলেছেন যে পুলিশ কিছু লুকোনোর বা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে নি। এরপর সিবিআইয়ের কাছে যায় আর জি করের তদন্তভার।
অন্যদিকে আবার সেমিনার রুমে ভিড়ের ছবি ভাইরাল হলে তা নিয়ে সাফাই দিয়ে মাঠে নামেন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়। জানান সেখানে কোনও বহিরাগত ছিলেন না। কিন্তু অভীক দে নামের এক ব্যক্তিকে ফিঙ্গার প্রিন্ট এক্সপার্ট হিসেবে দেখিয়ে বিতর্কে জড়ান তিনি। তার উপর নির্যাতিতার গায়ের চাদরের রঙ নিয়েও পুলিশের দিকে ওঠে আঙুল। নির্যাতিতার মা-বাবাও বলেন ডিসি সেন্ট্রাল মিথ্যে বলছেন। এর ফলে তাঁর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি সাংসদ। ফলে চিঠি গেল সিবিআইয়ের কাছে।





