অভাবনীয় সাফল্য এল সপ্তম বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে। এবারের বাণিজ্য সম্মেলনে ৩ লক্ষ ৭৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকার লগ্নির প্রস্তাব এসেছে রাজ্যে, এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত দু’দিনের বাণিজ্য সম্মেলনে দেশবিদেশের শিল্পপতিদের সঙ্গে মোট ১৮৮টি মউ সাক্ষর হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
আজ, বুধবার ছিল বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের শেষদিন। এদিন সমাপ্তি ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিল্পপতিদের ফের একবার মনে করিয়ে দিয়ে বলেন যে বিনিয়োগ ও শিল্পের জন্য একমাত্র গন্তব্য বাংলাই। এবারের বাণিজ্য সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন ৪০টিরও বেশি দেশের শিল্পপতিরা। বাংলাই যে লগ্নির সেরা ঠিকানা, তাও তাদের বুঝিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কী বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, বাংলার ল্যান্ড ব্যাঙ্ক, প্রশাসনের স্থায়িত্ব, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জমি নীতি, সবকিছুই শিল্পের জন্য একেবারে আদর্শ। তিনি বলেন, “বাংলা সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা। আপনাদের স্বাগত জানাতে আমরা তৈরি। দেশে ফিরে বন্ধুদের বলুন, বাংলায় বিনিয়োগ করতে।” বিদেশের শিল্পোদ্যগীদের আগামী বিজিবিএসের জন্য নেমন্তন্নও করেছেন মমতা”।
নরেন্দ্র মোদী সরকারকেও কটাক্ষ মমতার
এদিন মোদী সরকারকে বিঁধেও মমতা বললেন, “এখানে কেন্দ্রে একটা সরকার, আর রাজ্যে আরেকটা সরকার। কেন্দ্রের সরকার, রাজ্যের উপর করের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। অতিরিক্ত কর চাপিয়ে চাপ সৃষ্টি করছে”। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, শিল্পপতিদের উপর চাপ দিচ্ছে কেন্দ্র।
আজ, বুধবার সম্মেলন শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এবারের বিশ্ববাংলা বাণিজ্য সম্মেলনে ১৮৮ টি মৌ চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রস্তাবিত লগ্নির মোট পরিমাণ ৩ লাখ ৭৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। যে টার্গেট দিয়ে এবারের শিল্প সম্মেলন শুরু হয়েছিল, তার চেয়ে প্রস্তাবিত লগ্নির পরিমাণ অনেক বেশি। এমনকি, এই লগ্নি গতবারের রেকর্ডও ছাপিয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
গত বছরের সম্মেলনে ১৩৭টি মৌচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ৩.৪২ লাখ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব ছিল। সেগুলিতে ৩০ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছিল রাজ্য সরকার। এবারের বাণিজ্য সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ৫ হাজার প্রতিনিধি। মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, উৎপাদন শিল্প, পরিকাঠানো, কৃষি ও কৃষিজ পণ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্কিল ডেভেলপমেন্ট, পর্যটন সহ নানান ক্ষেত্রেই লগ্নির প্রস্তাব এসেছে এবারে।
প্রসঙ্গত, এই দু’দিনের বাণিজ্য সম্মেলনে প্রথমেই লগ্নি করেছিলেন মুকেশ আম্বানি। ২০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমাদের জমি তৈরি রয়েছে। আমাদের পরিকাঠামো তৈরি রয়েছে। রয়েছে মেধা এবং দক্ষ শ্রমিক। বাংলায় হল বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ গন্তব্য”।





