বাংলা শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা (Durga Puja) আর তাতে সময় আর বেশি বাকি নেই। বাংলা শ্রেষ্ঠ উৎসবে কোনওরকম ভুল ভ্রান্তি, ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়েছেন রাজ্যে সুপ্রিমো। জনতার উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) স্পষ্ট বার্তা, “পুজোয় ফিরে আসুন। উৎসবে ফিরে আসুন”।
আরজিকর কান্ডে উত্তাল হয়েছে গোটা রাজ্য। প্রতিবাদের ঝড় আসরে পড়েছে কলকাতার রাজপথ থেকে সারারাজ্যের শহরতলী গ্রামে। মুখে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দিয়ে হাতে মোমবাতি কিংবা মশাল নিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছে সাধারণ মানুষ। চলছে রাত দখল অভিযান। সেই প্রতিবাদী মানুষের একাংশ প্রথম থেকেই আরজিকর হাসপাতালের এই নৃশংস ঘটনায় দোষীদের আড়াল করা, পুলিশকে দিয়ে প্রমাণ লোপাট প্রভৃতি অভিযোগ করে আঙ্গুল তুলেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এবং তার দল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে। ক্রমেই সেই আওয়াজ হয়েছে আরো জোরালো। এহেন পরিস্থিতিতে প্রতিবাদকে বিভ্রান্ত করে দিতেই কি এরকম বার্তা মমতার।
রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে উঠছে দুর্গাপুজো বয়কটের ডাক। কোথাও কোথাও সরকারি অনুদান ফিরিয়ে দিয়েছে বেশ কিছু ক্লাব। আর এই প্রতিবাদ বাংলা দুর্গাপূজোকে প্রভাবিত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেই এই বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, “পুজোয় ফিরুন, উৎসবে ফিরুন। একমাস একদিন হয়ে গেল। রোজ রোজ রাস্তায় নামলে অনেক মানুষের অসুবিধা হয়”।
বিরোধীরা পূজোর অর্থনীতি ধ্বংস করে দিতে চাইছে বলে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মানুষকে বিভ্রান্ত না হতে বার্তা দিলেন তিনি। তিনি বলেন, “পুজো একটা অর্থনীতি। বাংলায় একটা উৎসব আসছে। এই উৎসবের সময় গরিব মানুষ করে খায়। ঢাকি থেকে ধামসা-মাদল, ছোট দোকান থেকে শুরু করে স্বনির্ভর গোষ্ঠী সবার রুজিরুটি নির্ভর করে পুজোর উপর”। তিনি আরও বলেন, “দুর্গাপুজো আমাদের সেরা উৎসব। এই উৎসবে যেন কোনও ভুলভ্রান্তি, ষড়যন্ত্র, কুৎসা, অপপ্রচার, চক্রান্ত না হয়”।
আরও পড়ুনঃ তীব্র হতাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট! এবার কোন পথে চলবে চিকিৎসকদের আন্দোলন? সুপ্রিম নির্দেশ মেনে কাজে ফিরবেন? কী জানাচ্ছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা?
মুখ্যমন্ত্রীকে দিন আরও বলতে শোনা যায়, পুজো যাচ্ছে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় তার জন্য রাজ্যের প্রতেকটা মানুষকে দায়িত্ব নিতে হবে। পুজোর কদিন এমন কিছু করার থেকে তিনি মানুষকে বিরত থাকতে বলেন যাতে শহরে যানজট এবং গন্ডগোল সৃষ্টি হতে পারে। কোনও ক্লাব বিতর্কিত থিম করছে কিনা সেই বিষয়ে পুলিশকে নজর রাখার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান পুজোর সময় রাজ্যে অনেক বিদেশি অতিথিরা ঘুরতে আসেন তাদের যেন কোনও রকম সমস্যা না হয়, নয়তো এই রাজ্যেরই সম্মান নষ্ট হবে।





