রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবাদের ঢেউ। মিছিলে স্লোগানে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ রূপ নিয়েছে গণ আন্দোলনের। নিয়মিত চলছে রাত দখল। এক মাস পেরিয়ে গেল আর জি করের (R G Kar) নৃশংস কান্ডের। এক মাসে একটুও রেশ কমিটির প্রতিবাদের বরং সময়ের সাথে প্রতিবাদের তেজও বেড়েই চলেছে। এই প্রতিবাদ আন্দোলনে বারবারই সামিল হয়েছেন বিশিষ্ট জনেরা। সৌরভ গাঙ্গুলীও (Sourav Ganguly) চাইছেন নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত হোক এই ঘটনার। সোমবার এই মামলার ছিল প্রথম শুনানি। আগামী শুনানি রয়েছে আগামী মঙ্গলবার। তার আগেই সৌরভের একটাই দাবী, যেন সুবিচার পান ওই নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসক।
গত ১১ই আগস্ট আরজিকর কাণ্ড নিয়ে মুখ খুলেছিলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী। তবে তাঁর সেই কথা ভালোভাবে আন্দোলনকারী এবং সাধারণ মানুষ কেউই নেননি। তারপরেই সৌরভ গাঙ্গুলীকে নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। সেদিন সৌরভ গাঙ্গুলীর বলেন, “আমি মনে করি না, বিচ্ছিন্ন একটা ঘটনা দিয়ে সবকিছুর বিচার করা উচিত। এ ধরনের দুর্ঘটনা বিশ্বের সব জায়গায়ই ঘটে। তাই এটা ভাবার সুযোগ নেই যে সবকিছু বা সবাই নিরাপদ নয়। এটা ভাবা ভুল যে মেয়েরা নিরাপদ নয়। শুধু পশ্চিমবঙ্গই নয়, ভারতের সব জায়গায়ই মেয়েরা নিরাপদ। আমরা সেরা একটি জায়গায় বসবাস করি। একটি ঘটনা দিয়ে কারও এটা বিচার করা উচিত নয়”। এই বক্তব্যের পর থেকেই তীব্র সমালোচনা শুরু হয় সৌরভ গাঙ্গুলী কে নিয়ে ।
তারপরেই অবশ্য চাপের মুখে নিজের বক্তব্য বদলাতে বাধ্য হন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী। তিনি বলেন, “গত রোববার আমি এটা (আর জি কর কাণ্ড) নিয়ে কথা বলেছিলাম। আমি জানি না, আমার বক্তব্য কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটা ভয়ংকর এক ঘটনা। অপরাধীর এমন শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর এমনটা করতে না পারে। তদন্ত চলছে। আমি আশা করি, অপরাধী ধরা পড়বে এবং শাস্তি পাবে। মানুষ যেভাবে প্রতিবাদ করছে, বিশ্বের যেকোনো জায়গায় এমন ঘটনা ঘটলে এভাবেই মানুষ আওয়াজ তুলবে”।
সেদিনের পর থেকে জল গড়িয়ে গেছে অনেকটা দূর। আন্দোলন হয়েছে আরো তীব্রতর। স্লোগানের আওয়াজ হয়েছে আরও তীক্ষ্ণ। আগস্টে আরজিকর কাণ্ড নিয়ে কথা বলায় বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার পর আবার আর জি কর কাণ্ড নিয়ে ফের মুখ খুললেন সৌরভ গাঙ্গুলী। এবার তিনি বলেছেন, “আমি সুপ্রিম কোর্টের শুনানি সম্পর্কে এখনও কিছু জানতে পারিনি। তবে চাইব অরাজনৈতিক মানুষ যে ভাবে রাস্তায় নেমেছেন, মেয়েটি যেন সুবিচার পায়। এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক যাতে উদাহরণ তৈরি হয়। বিচার পেতে হয়তো সময় লাগে। কিন্তু সাধারণ মানুষ যে ভাবে রাস্তায় নেমেছেন, দেখার মতো”।
আরও পড়ুনঃ ‘একমাস তো হয়ে গেল, এবার উৎসবে ফিরুন…’, প্রতিবাদী জনতার মন ঘোরাতে নয়া কৌশল, দুর্গাপুজোয় মেতে ওঠার ডাক মমতার
কাজের ব্যস্ততার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ফলো করতে পারেন না সৌরভ। তাই আরজিকর কাণ্ড নিয়ে কোথায় কী কথা হচ্ছে? কোথায় কিভাবে প্রতিবাদ আন্দোলন হচ্ছে সেই বিষয়ে একদমই ওয়াকিবহাল নন তিনি। কিন্তু তার দাবী একটাই এই নক্করজনক ঘটনায় এই নক্ক্যারজনক ঘটনায় দোষীদের নজিরবিহীন শাস্তি। তিনি আরও বলেছেন, “যে বা যারা এই কাজটা করেছে, তাদের শাস্তি দিতেই হবে। এমন শাস্তি দেওয়া হোক, সারা পৃথিবীর কাছে যেন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে”।





