রাজ্যে এই মুহূর্তে ট্যাব দুর্নীতি নিয়ে চারদিক উত্তাল। কলকাতা-সহ ১৫ জেলায় এই দুর্নীতির শিকড় ছড়িয়ে পড়েছে। তদন্ত, গ্রেফতারি চলছে। এবার এই দুর্নীতি নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কী জানালেন তিনি।
আজ, শুক্রবার দার্জিলিং থেকে ফেরার পথে বাগডোগরা বিমানবন্দরে ফেরার পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ট্যাব দুর্নীতি নিয়ে মুখ খোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, “ট্যাব নিয়ে সিট গঠন করা হয়েছে। এটা প্রশাসনের কাজ, প্রশাসন করুক। এটা মিডিয়া ট্রায়ালের ব্যাপার নয়”।
বাংলার পাশাপাশি অন্য রাজ্যের প্রসঙ্গও এদিন তোলেন মমতা। বলেন, “মহারাষ্ট্র, রাজস্থানেও ওরা হাইজ্যাক করেছে। এই গ্রুপকে কিন্তু আমরাই ধরতে পেরেছি। ইতিমধ্যেই সিট তৈরি হয়েছে। আমরাই একমাত্র এই গ্রুপের ছজনকে ধরতে পেরেছি। আমাদের প্রশাসন যথেষ্ট স্ট্রং, রাফ অ্যান্ড টাফ। ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকি যা করার ওরা করবে”।
এই দুর্নীতির জেরে ট্যাবের টাকা পান নি শ’য়ে শ’য়ে পড়ুয়া। তারা কী পরবর্তীতে আদৌ আর টাকা পাবে? এই নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে অনেকেই মধ্যেই। এদিন এই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিষ্কার জানান, “যারা ট্যাবের টাকা পায়নি, তাদের ট্যাবের টাকা দিয়ে দেওয়া হবে”।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই ট্যাব দুর্নীতির জাল ছড়িয়ে প্রায় ১৫ জেলায়। গ্রেফতারও করা হয়েছে একাধিককে। বেশিরভাগ গ্রেফতারির সংখ্যা উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া থেকে। সেখানকার একাধিক অ্যাকাউন্টে ট্যাব দুর্নীতির টাকা জমা পড়েছে বলে খবর। এও জানান গিয়েছে, ৩০০ থেকে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সেই সমস্ত অ্যাকাউন্ট ভাড়া খাটানো হয়েছিল। নানান সাইবার ক্যাফের মালিকদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে এক তৃণমূল নেতার ছেলেও রয়েছে বলে দাবী। প্রশাসনিক স্তর থেকে কোনও দুর্নীতি হয়েছে কী না, তা নিয়ে তদন্ত করছে লালবাজার।
আরও পড়ুনঃ ‘ট্যাবের টাকা বিলির নামে সেই টাকা তৃণমূল নেতাদের পকেটে ঢুকেছে, এটাই তো মমতার চমৎকার’, ট্যাব দুর্নীতি নিয়ে বিস্ফোরক দিলীপ
জানা গিয়েছে, স্কুল থেকে শুরু করে ডিআই অফিস, বিকাশ ভবন, অর্থ দফতরের কোন কোন কর্মী এই ট্যাবের টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে যুক্ত, সেই তালিকা চেয়েছে লালবাজার। কেন্দ্রীয়ভাবে অ্যাকাউন্ট নম্বর বদলে দেওয়া হয়েছে বলে অনুমান পুলিশের। ফরেন আইপি অ্যাড্রেসের খোঁজ চলছে। আরও নতুন কী তথ্য মেলে এই দুর্নীতি নিয়ে, এখন সেটাই দেখার!





