বাংলার জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস বাংলা’কে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। ঘরের প্রতিযোগীদের সম্পর্ক, ঝামেলা এবং খেলার ধরন নিয়ে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে নতুন আলোচনা। বিশেষ করে রাজবীর দে এবং নন্দিনী দত্তের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। কখনও তাঁদের একসঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যাচ্ছে, আবার কখনও তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্যও সামনে আসছে। একই বিছানায় শুয়ে তাঁদের গল্প করার বিষয়টিও আগে প্রকাশ্যে এসেছে। এমনকি সায়ক চক্রবর্তী তাঁদের রাতের ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত দেখেছেন বলে অন্য প্রতিযোগীদের জানিয়েছিলেন। এই আবহেই রাজবীর এবং নন্দিনীর সমীকরণ নিয়ে এবার মুখ খুললেন অভিনেত্রী মানসী সেনগুপ্ত।
এর আগে ‘বিগ বস বাংলা’র সম্ভাব্য প্রতিযোগী হিসেবে মানসী সেনগুপ্তের নামও শোনা গিয়েছিল। তবে সম্প্রতি তিনি নিজেই জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয়নি। গতকাল নিজের এই প্রসঙ্গ স্বীকার করার পর এবার শোয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও নিজের মত জানিয়েছেন অভিনেত্রী। প্রতিযোগীদের মধ্যে তাঁর পছন্দের মানুষটি হলেন ভরত কল। ভরতের খেলা নিয়ে আরও কিছু দেখতে চান বলেই জানিয়েছেন তিনি। মানসীর কথায়, “ভরতদা আর একটু যদি খেলে, ভালো লাগবে আর কী। আমার প্রিয় তো ভরতদাই।” অর্থাৎ শোয়ের প্রতিযোগীদের মধ্যে ভরত কলের খেলাই এখনও পর্যন্ত তাঁর নজর কেড়েছে।
তবে রাজবীরকে নিয়ে সম্পূর্ণ অন্য সুরে কথা বলেছেন মানসী। শোয়ের শুরুতেই রাজবীরের একটি মন্তব্য তাঁকে যথেষ্ট বিরক্ত করেছে বলে জানান অভিনেত্রী। রাজবীর “চাঙ্গী, মুঙ্গীর দল” বলে যে মন্তব্য করেছিলেন, সেটিই মানসীর আপত্তির অন্যতম কারণ। অভিনেত্রী জানান, রাজবীরকে আগে ব্যক্তিগত ভাবে চিনতেন না এবং পরে তাঁর কাজ সম্পর্কে জানতে তাঁর পরিচিতি দেখেছেন। সেই প্রসঙ্গেই মানসীর দাবি, রাজবীর যাঁদের নিয়ে ওই মন্তব্য করেছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের অনুসারীর সংখ্যা তাঁর তুলনায় অনেক বেশি। তাঁর কথায়, “ও কোথা থেকে এত আত্মবিশ্বাস পায়, আমি জানি না। ও কতটা কাজ করেছে, সেটা নিয়েও আমার সন্দেহ আছে!” যদিও নিজের এই মন্তব্যকে তিনি অত্যন্ত কঠিন কথা বলেই উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন, সাধারণত কারও সম্পর্কে এমন কথা বলেন না।
রাজবীরের সেই মন্তব্য নিয়ে নিজের ক্ষোভ আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন মানসী। তাঁর দাবি, রাজবীরের জায়গায় তিনি থাকলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে যেতে পারত। মানসী বলেন, “প্রথমেই যে ধামাকাটা করল, আমি সেখানে থাকলে কী করতাম জানি না। বিগ বসের ঘরেই হাতাহাতি লেগে যেত।” এরপর রাজবীরের বলা কথাগুলি তাঁর ভালো লাগেনি বলেও জানান অভিনেত্রী। তবে রাজবীরকে নিয়ে তাঁর আপত্তি শুধু ওই একটি মন্তব্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ওই ধরনের মন্তব্য করার পর আর চুপ করে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। মানসীর কথায়, “আমি হলে এটা বলেই দিতাম, তারপর হাতাহাতি লেগে যেত।”
আরও পড়ুনঃ ‘আউটসাইডার’ তকমা থেকে মুম্বইয়ের নতুন লড়াই! অভিনেত্রী অনিন্দিতা বসুকে বাংলা টেলিভিশনের পর্দায় মিস করেন আপনারা?
রাজবীর এবং নন্দিনীর সম্পর্ক নিয়েও নিজের অবস্থান জানিয়েছেন মানসী সেনগুপ্ত। দুজনের মধ্যে যে ঘনিষ্ঠতা দেখা যাচ্ছে, সেটিকে আপাতত প্রেমের সম্পর্ক হিসেবে মানতে রাজি নন অভিনেত্রী। তাঁর চোখে গোটা বিষয়টিই ‘বিগ বস’-এর খেলার অংশ বলেই মনে হচ্ছে। মানসীকে রাজবীর এবং নন্দিনীর প্রেমের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “ওর কোনও কিছু কি আসল হতে পারে? আমার পুরো ব্যাপারটাই খেলা লাগছে, একদমই খেলা।” এর আগে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে দর্শকদের মধ্যেও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। আবার ক্যাপ্টেন্সি টাস্ককে কেন্দ্র করে রাজবীর এবং নন্দিনীর মধ্যে মনোমালিন্যও প্রকাশ্যে এসেছিল। ফলে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে চর্চা চললেও মানসীর বক্তব্যে আপাতত সেই সম্পর্ককে তিনি খেলার কৌশল হিসেবেই দেখছেন।






