বিনোদন জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রয়াত হয়েছেন অভিনেত্রী মিঠু মুখার্জি। জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন তিনি। গত রবিবার শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অভিনেত্রী। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের আবহ তৈরি হয়েছে বাংলা চলচ্চিত্র মহলে। একসময় টলিউডের পরিচিত মুখ ছিলেন মিঠু। তাঁর অভিনয়ের জন্য দর্শকদের কাছে আলাদা জায়গা তৈরি হয়েছিল।
মিঠু মুখার্জির সঙ্গে ‘সন্ধি’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা দীপঙ্কর দে। অভিনেত্রীর প্রয়াণের পর তাঁর সঙ্গে কাজের দিনের কথা স্মরণ করেছেন তিনি। দীপঙ্কর দে জানান, ‘সন্ধি’ ছবিতে মিঠুই ছিলেন গল্পের নায়িকা। সেই সময় নিয়মিত ছবিতে কাজ করতেন তিনি এবং তাঁর জনপ্রিয়তাও ছিল যথেষ্ট। দীপঙ্করের কথায়, মিঠু অত্যন্ত প্রতিভাবান অভিনেত্রী ছিলেন।
তবে মিঠু মুখার্জির স্বভাবের একটি দিকও স্মরণ করেছেন দীপঙ্কর দে। তাঁর কথায়, খুব অল্পতেই মিঠুর মাথা গরম হয়ে যেত এবং তিনি কিছুটা রাগী স্বভাবের ছিলেন। একইসঙ্গে দীপঙ্কর জানিয়েছেন, এত প্রতিভাবান এবং জনপ্রিয় হওয়ার পরও কেন মিঠু দীর্ঘদিন অভিনয় থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন, সেই কারণ তাঁর জানা নেই। দীর্ঘ সময় ধরে নিজেকে অনেকটাই আড়ালে রেখেছিলেন অভিনেত্রী।
১৯৭১ সালে চিত্ত বসুর পরিচালনায় ‘শেষ পর্ব’ ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় মিঠু মুখার্জির অভিনয়ে হাতেখড়ি হয়। এরপর ১৯৭৩ সালে দীনেন গুপ্তর ‘মর্জিনা আবদুল্লাহ’ ছবিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। এরপর দুলাল গুহর ‘খান দোস্ত’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে হিন্দি সিনেমাতেও পা রাখেন মিঠু। বাংলা ও হিন্দি দুই ছবিতেই নিজের অভিনয়ের পরিচয় তৈরি করেছিলেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ “রেষারেষির এই খেলায় আমি শুরু থেকেই পিছিয়ে” সম্পর্ক ভাঙার নয়, গড়ার বিশ্বাসী, ট্রফি হাতছাড়া হলেও মানুষের মন জয় করে বিগ বস বাংলা থেকে সায়কের বিদায়! ‘ওর এই আত্মত্যাগের মূল্য নন্দিনী বুঝবে না’, ‘সায়কের মতো ভালো মানুষ বাদ পড়ে গেল, আর নিরঞ্জন-ঝিলাম ওখানে বসে বসে কী করছে?’ দাবি নেটিজেনদের!
অভিনয় থেকে দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৯০ সালে চন্দ্র বারোটের ‘আশ্রিতা’ ছবির মাধ্যমে পর্দায় ফিরেছিলেন মিঠু মুখার্জি। সেটিই হয়ে ওঠে তাঁর শেষ ছবি। এরপর আর তাঁকে নিয়মিত অভিনয়ে দেখা যায়নি। বছরের পর বছর তিনি ছিলেন লোকচক্ষুর আড়ালে। তবে পর্দা থেকে দূরে থাকলেও দর্শকদের স্মৃতি থেকে মুছে যাননি মিঠু। তাঁর প্রয়াণে তাই শোকের আবহ নেমে এসেছে বিনোদন জগত এবং তাঁর অনুরাগীদের মধ্যে।






