একই পরিবারের ১১ জন হিন্দু একসাথে মারা গেলেন, তাও আবার একই ঘরে। জানা গেছে ২০১৫ সালে ভীল সম্প্রদায়ভুক্ত ভুক্ত এই পরিবারটি এদেশে চলে আসেন এবং যোধপুরে থাকতে শুরু করেন। পরিবারের সদস্যরা গতরাতে লোদাতা আলাভাতা গ্রামের একটি কুঁড়েঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। তবে পরিবারের এক সদস্য বাড়ির বাইরে ছিলেন। আশ্চর্যজনকভাবে সবাই মারা গেলেও তিনি জীবিত আছেন। মৃতের তালিকায় ৫ বছর বয়সী থেকে ৭৫ বছরের প্রৌঢ় রয়েছেন।
আজ সকালে বাড়ির বাইরে থাকা ওই সদস্য কেওয়ালরাম ঘরের মধ্যে ঢুকেই হতবাক হয়ে যান। তিনি দেখেন প্রত্যেকেই ঘুমোচ্ছে কিন্তু কেউ একটুও নড়ছে না। এরপর তিনি আত্মীয়দের খবর দেন। অবশেষে সবাই যখন বুঝতে পারেন ওই ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে তখন পুলিশকে খবর দেয় কেওয়ালরাম। এরপর যোধপুর গ্রামীণের পুলিশ সুপার রাহুল বারহাত এবং যোধপুরের জেলাশাসক ইন্দ্রজিৎ সিং-সহ উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তারা ঘটনাস্থলে যান।
এছাড়া এই ঘটনায় তদন্তের জন্য ডগ স্কোয়াড এবং ফরেন্সিক টিমকেও ডাকা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁরা ভারতে দীর্ঘকাল ভিসায় ছিলেন এবং স্থানীয় একজনের থেকে লিজে জমি নিয়ে চাষ করতেন। এই ১১ জন মৃতেরা হলেন – লক্ষ্মী (৪০), বুধারাম (৭৫), অন্তরা দেবী (৭০), রবি (৩৫), জিয়া (২৫), দয়াল (১১), সুমন (২২), দানিশ (১০), দিয়া (৫), নয়ন (১২) এবং মুকদাশ (১৭)। তবে তাঁরা বাইরে থেকে এলেও তাঁদের অনেক আত্মীয়রাই এদেশে থাকেন।
তবে কীভাবে তাঁদের মৃত্যু হল সে বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে। পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্য, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, তাঁরা ইঁদুরের বিষ খেয়ে সম্ভবত আত্মহত্যা করেছেন। কারণ মেঝেতে ইঁদুরের বিষ মিলেছে। তবে গতরাতে তাঁদের খাবারে কেউ বিষ মিশিয়েছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোটও মিলেছে। আপাতত তাঁর যাচাই চলছে। তবে মৃতদের দেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন মেলেনি।’ এছাড়া এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, কেওয়ালরাম এবং তাঁর স্ত্রী’র মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল না। তাই সেদিকটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তবে আশ্চর্যের বিষয় ঘরের মধ্যে এত কিছু হয়ে গেল আর কিছু জানতেও পারলেন না কেওয়ালরাম। তাই পুলিশের সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ পড়েনি কেওয়ালরাম। রাজস্থানের কংগ্রেস সরকারের তরফ থেকে এই ঘটনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।





