বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি একঘেয়ে অচলাবস্থার দিকে এগোচ্ছিল, তা হঠাৎ করেই রুদ্ধশ্বাস মোড় নিচ্ছে। সাধারণ মানুষ ভেবেছিল, হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী প্রশাসন হয়তো শীঘ্রই নির্বাচনের দিকে এগোবে। কিন্তু সময় পেরিয়ে যাচ্ছে, পরিবর্তনের কোনও আলোর দিশা এখনও দেখা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন আমজনতা।
দুইবছর ধরে একটাই প্রশ্ন ঘুরছে ঢাকার অলিগলিতে—”ভোট কবে?” মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার সময় ঘোষণা করেছিল যে, তারা কেবলমাত্র নির্বাচনের পথ সুগম করতে এসেছে। কিন্তু বাস্তবে তার উলটো ছবি ধরা পড়ছে। রাজনৈতিক দলগুলি অভিযোগ করছে, নির্বাচন হচ্ছে না ইচ্ছাকৃতভাবেই। জনতার এই অস্থিরতার মাঝে এবার কড়া পদক্ষেপ নিতে দেখা গেল সে দেশের সেনাবাহিনীকে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতেই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন যে, নির্বাচন পিছনোর পেছনে কোনও গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। এই মন্তব্যের পরই উত্তেজনা আরও বাড়ে, এবং ঠিক তার পরদিনই সেনা প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান মুখ খোলেন। ঢাকার সেনা প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করতে হবে।” এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। সতর্ক করে বলেন, সেনাবাহিনীর কাজকর্মে অকারণে হস্তক্ষেপ করছে ইউনূস সরকার, যা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
সেনা প্রধান আরও বলেন, রাখাইন করিডরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সেনাবাহিনীকে অন্ধকারে রেখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তিনি মনে করিয়ে দেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত কেবলমাত্র নির্বাচিত সরকারই নিতে পারে এবং তা হওয়া উচিত গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মত পদ্ধতিতে। তাঁর মতে, জাতীয় স্বার্থকে অবহেলা করে কোনও বিদেশি চাপের কাছে মাথা নত করা চলবে না।
আরও পড়ুনঃ Weather update : আকাশে কালো মেঘ, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের তাণ্ডব! উত্তর-দক্ষিণ মিলিয়ে ১৪ জেলায় দুর্যোগের আশঙ্কা !
সূত্রের খবর, ইউনূস সরকার সেনা প্রধানকে অপসারণ করতে চাইছেন বহির্বিশ্বের সাহায্যে। এমন আশঙ্কায় সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে কৌশলে বার্তা দিলেন জেনারেল ওয়াকার। নৌসেনা ও বায়ুসেনার সমর্থন নিয়ে তিনি ইউনূস সরকারকে জানিয়ে দিলেন—“আর নয়। জাতীয় স্বার্থে সেনা চুপ করে বসে থাকবে না।” এই হুঁশিয়ারির পর রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে, তবে কি এবার সত্যিই খেলা ঘুরে যাচ্ছে বাংলাদেশে?





