ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক স্তরে বারবার উঠে এসেছে বিভিন্ন বিতর্ক। সম্প্রতি বাংলাদেশ ঘুরে এসে এক আন্তর্জাতিক মঞ্চে উত্তরের এই রাজ্যগুলিকে ‘ল্যান্ডলকড’ আখ্যা দিয়ে মন্তব্য করেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। সেই সঙ্গে বাংলাদেশকে ‘সাগরের গার্ডিয়ান’ হিসেবে তুলে ধরায়, বিস্মিত হয় ভারতের কূটনৈতিক মহল। সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ—আবার কি সীমান্ত ইস্যুতে চাপানউতোর শুরু হচ্ছে?
এমনিতেই বিগত কয়েক মাস ধরেই শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেন নেক’ নিয়ে উত্তেজনা ক্রমশ বেড়েছে। চিনের সহযোগিতায় বাংলাদেশের লালমনিরহাটে একটি বায়ুসেনা ঘাঁটি গঠনের খবর ছড়িয়ে পড়ায় আরও বাড়ে দুশ্চিন্তা। ভারত ও বাংলাদেশ—দুই দেশের নাগরিকরাই ভাবতে শুরু করেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা কি তবে টাল খাচ্ছে? সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে, এই ধরনের পদক্ষেপ কাদের স্বার্থ রক্ষা করছে?
এই আবহেই সাংবাদিক সম্মেলনে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি বলেন, “ভারতের একটা চিকেন নেক আছে, আর বাংলাদেশের দুটো চিকেন নেক আছে। যদি তারা আমাদের চিকেন নেকে হামলা করে, আমরা তাদের দুটোতে হামলা করব।” তিনি বাংলাদেশের মেঘালয়ের সীমান্তবর্তী অংশ এবং চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন অঞ্চলের সংকীর্ণ করিডোরকে বাংলাদেশের ‘চিকেন নেক’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, “চট্টগ্রামের ওই চিকেন নেক এতটাই সংকীর্ণ যে একটা ফোনেই ওটা উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।”
হিমন্তর হুঁশিয়ারি এখানেই থেমে থাকেনি। তিনি বলেন, “অপারেশন সিঁদুর দেখেই বুঝেছেন সকলে—ভারত কতটা শক্তিশালী রাষ্ট্র। আমি পরমাণু শক্তির প্রসঙ্গ তো তুলি-ইনি, কিন্তু বাংলাদেশ যদি ভাবেও ভারতের ওপর আক্রমণ করবে, তবে তাদের একাধিকবার জন্ম নিতে হবে।” পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “ওরা খুবই ছোট একটা দেশ, ওদের গুরুত্ব দিয়ে কথা বলার কিছু নেই।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে অসমের মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোর উন্নয়ন পরিকল্পনায় কোনও প্রতিবেশী দেশের হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। শিলং থেকে শিলচর পর্যন্ত ১৬৬.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ হাইওয়ে নির্মাণে ভারত সরকারের সবুজ সংকেতের উল্লেখ করে তিনি জানান, এর মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা ও পরিবহণ ব্যবস্থায় বিপুল পরিবর্তন আসতে চলেছে।
আরও পড়ুনঃ Bangladesh : “ডিসেম্বরে ভোট চাই!” ঢাকার সেনা প্রাঙ্গণ থেকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ সেনা প্রধানের, উত্তাল বাংলাদেশ
এই মন্তব্যে স্পষ্ট, কেন্দ্র ও রাজ্য মিলে উত্তর-পূর্বের নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো নিয়ে যে চিন্তাভাবনা করছে, তা নিছক কাগজে কলমে নয়—এটি বাস্তবের পথে হাঁটছে। শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেন নেককে কেন্দ্র করে যে কোনও ধরণের আগ্রাসনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। বরং ভারত সরকার এখন এমন পরিকাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে, যাতে বাইরের কোনও শক্তি হামলার কথা ভাবতেই না পারে। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন করিডোরকে যেভাবে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তাতে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।





