Bangladesh: তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতেই সক্রিয় আওয়ামী লীগ—নিষিদ্ধ দলের অফিস খোলা ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা !

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও যেন অদ্ভুত এক স্রোত বইতে শুরু করেছে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই ঢাকার অলিগলি থেকে শুরু করে জেলা শহরের দলীয় কার্যালয় ঘিরে অস্বাভাবিক নড়াচড়া চোখে পড়ছে। এতদিন যে দল কার্যত নিশ্চুপ ছিল, তাদের পতাকা ও ব্যানার হঠাৎই আবার দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাতাস কি আবার দিক বদলাচ্ছে?

জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বিভিন্ন জেলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর নেতা-কর্মীরা বন্ধ কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা শুরু করেন। কোথাও তালা খুলে প্রবেশ, কোথাও আবার পাল্টা দখল ও হামলার অভিযোগ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। বিশেষ করে পঞ্চগড়ে এক কার্যালয়ের তালা খোলার সময় স্থানীয় এক বিএনপি নেতার উপস্থিতির ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়।

পেছনের প্রেক্ষাপটটাও কম নাটকীয় নয়। ২০২৪ সালের অগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে মহম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় এবং ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে সাম্প্রতিক নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি দলটি। সেই সময় দফায় দফায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, এমনকি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়িতেও হামলার অভিযোগ ওঠে।

তবে এখন দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম দাবি করছেন, দলীয় কার্যালয় কখনও বাজেয়াপ্ত হয়নি এবং কর্মী-সমর্থকদের সেখানে যাওয়ার ওপর আইনগত নিষেধাজ্ঞা নেই। তাঁর বক্তব্য, “নির্দেশ বা সমঝোতার প্রশ্ন নেই, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও স্বাভাবিক হবে।” দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, শেখ হাসিনা বিদেশে থাকলেও বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং কার্যালয়ে সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ Mob Att*ack:“নাইট ডিউটিতে বেরিয়ে আর ফেরা হল না বাড়ি”— চোর সন্দেহে গণপ্রহারের ব*লি তরুণ ইঞ্জিনিয়ার, মর্মা*ন্তিক পরিণতিতে স্তব্ধ পরিবার!

এর মধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা—নির্বাচনের আগে কিছু এলাকায় বিএনপি বা জামায়াত ঘনিষ্ঠ নেতারা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কি না। চাঁদপুর, ঠাকুরগাঁও, সাতক্ষীরা, বরগুনার বেতাগী, পটুয়াখালীর দশমিনা ও খুলনায় কার্যালয় খোলার ঘটনাগুলি সেই জল্পনাকে উসকে দিচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রশ্ন একটাই—এ কি কেবল তৃণমূলের স্বতঃস্ফূর্ত প্রত্যাবর্তন, নাকি বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরও বড় কোনও সমীকরণের ইঙ্গিত?

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles