Narendra Modi : “তোমরা এমনিতেই ন*গ্ন”—AI গ্লোবাল সামিট বিতর্কে কংগ্রেসকে সরাসরি আক্রমণ মোদির!

আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রযুক্তিগত সাফল্য তুলে ধরার কথা ছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ভবিষ্যতের রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে রাজধানীতে জড়ো হয়েছিলেন দেশ-বিদেশের প্রতিনিধিরা। কিন্তু সেই আয়োজন ঘিরেই আচমকা তৈরি হল বিতর্ক। রাজনৈতিক উত্তাপ এমন জায়গায় পৌঁছল যে, প্রযুক্তির আলোচনা ছাপিয়ে শিরোনামে উঠে এল প্রতিবাদের ভাষা ও তার মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন।

ঘটনাটি ঘটে দিল্লির প্রগতি ময়দানের ভারত মণ্ডপমে চলা এআই গ্লোবাল সামিটে। যুব কংগ্রেস কর্মীদের একাংশ কিউআর কোড পাস ব্যবহার করে ভেন্যুতে ঢুকে পড়েন এবং স্লোগান তুলতে শুরু করেন। ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে তাঁরা অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বার্থে আপস করেছেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় যখন কয়েকজন কর্মী জামা খুলে অর্ধনগ্ন অবস্থায় প্রতিবাদ জানান। দ্রুত হস্তক্ষেপ করে নিরাপত্তাকর্মীরা। পরে দিল্লি পুলিশ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের দাবি, এই ঘটনার নেপথ্যে বৃহত্তর পরিকল্পনা ও বিদেশি বিক্ষোভের প্রভাব থাকতে পারে।

ঘটনার পরেই ইন্ডিয়া জোটের শরিক কয়েকটি দল যুব কংগ্রেসের এই পদক্ষেপ থেকে দূরত্ব বজায় রাখে। তাদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই ধরনের প্রতিবাদ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে। এআই গ্লোবাল সামিটকে জাতীয় কর্মসূচি বলেই উল্লেখ করা হয় বিভিন্ন মহলে। প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো বিষয় যেখানে আলোচ্য, সেখানে এমন ঘটনার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

উত্তরপ্রদেশের মিরাটে এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরাসরি কংগ্রেসকে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক মতভেদ ব্যক্তিগত আক্রমণে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, বিরোধীরা তাঁকে ঘৃণা করে এবং ব্যক্তিগত অপমান করতেও পিছপা হয় না। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, এআই গ্লোবাল সামিট কোনও রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠান ছিল না, এটি ছিল জাতীয় উদ্যোগ। তাঁর মন্তব্য, “দেশ জানে তোমরা এমনিতেই নগ্ন, তাহলে পোশাক খুলে ফেলার প্রয়োজন কেন মনে হল?”—এই বক্তব্য ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

আরও পড়ুনঃ Bangladesh: তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতেই সক্রিয় আওয়ামী লীগ—নিষিদ্ধ দলের অফিস খোলা ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা !

পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন প্রশ্ন উঠছে—আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে প্রতিবাদের সীমা কোথায়? প্রযুক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রদর্শনের মঞ্চে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া কি গ্রহণযোগ্য? সমর্থকরা বলছেন, প্রতিবাদ গণতন্ত্রের অধিকার। বিরোধীরা পাল্টা দাবি করছে, জাতীয় স্বার্থ ও প্রতিষ্ঠিত রীতিনীতি অমান্য করা হয়েছে। এআই গ্লোবাল সামিট ঘিরে এই বিতর্ক আপাতত থামার লক্ষণ নেই, বরং রাজনৈতিক তরজায় তা আরও জোরদার হচ্ছে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles