বিশ্বের বাণিজ্য ও কূটনীতিক মঞ্চে ফের উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক হঠকারি সিদ্ধান্তের পর ভারত ও চিনের সম্পর্কের দিকে সবাই নজর দিচ্ছে। ট্রাম্পের বিদেশি পণ্যের উপর জোরদার শুল্ক আরোপের প্রভাব ক্রমেই ভারতীয় অর্থনীতির ওপর পড়তে শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে চিনের সর্বশেষ পদক্ষেপ অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
গত কয়েক মাসে আমেরিকার বাজারে বিদেশি পণ্যের ওপর ট্রাম্প একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। ভারতীয় পণ্যের ওপর ইতিমধ্যেই ৫০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এবার তিনি ঘোষণা করেছেন, অক্টোবর থেকে আমেরিকায় যেকোনো ব্র্যান্ডেড বা পেটেন্টধারী ওষুধে ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে, যদি না সেই ওষুধের জন্য আমেরিকায় উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। এই সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, কারণ আমেরিকা ভারতীয় ওষুধের সবচেয়ে বড় বাজার।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে চিনের সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বেজিং ভারতীয় ওষুধের ওপর শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে একেবারে শূন্য করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। ভারতীয় ওষুধ কোম্পানিগুলো এবার চিনের বাজারে আরও সহজভাবে প্রবেশ করতে পারবে। শুল্কের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যিক সুবিধা নয়, পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের কঠোর নীতি রাশিয়া, ভারত ও চিনকে আরও কাছাকাছি এনেছে। সাম্প্রতিক SCO সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। এ সম্মেলনে ভারত ও চিনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব বিশেষভাবে আলোচনা হয়েছে। শুল্ক শূন্য করার এই পদক্ষেপ মূলত নয়াদিলির সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ দুর্গাপুজোয় কেষ্টর বাড়িতে নেই লোক খাওয়ানো! ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ায় ভেঙে গেল বহু বছরের ঐতিহ্য!
চিনের এই ঘোষণা ভারতের জন্য নতুন সুযোগের পথ খুলে দিয়েছে। এখন ভারতীয় ওষুধের রফতানি বেজিংয়ে সহজ হবে, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। কূটনীতিকরা মনে করছেন, বেজিং এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ট্রাম্পকেও একটি সূক্ষ্ম বার্তা পাঠিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।





