দূর্গাপুজোর উৎসবে কলকাতার প্যান্ডেল ঘুরে দেখা যেন এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। শহরের বহু মানুষ এই সময় পুজোর আনন্দে মেতে ওঠে, আর বিভিন্ন শোভাবাজারে দর্শকগণ দীর্ঘ লাইন ধরেন। ঠিক সেই সময়ে, গতকাল এক পরিচিত মুখকে দেখা গেল সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে। রাজন্যা হালদারের প্যান্ডেলের দিকে এগোতে ভিড়ের মাঝে চোখ ছিল অনেকের। তাঁর উপস্থিতি নিঃসন্দেহে সাধারণ দর্শককে আর্কষণ করলেও রাজনৈতিক মহলে তা নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
রাজন্যা হালদার ছাড়াও প্রান্তিক চক্রবর্তীও সঙ্গে ছিলেন। প্রান্তিক তৃণমূল ছাত্র পরিষদ থেকে সম্প্রতি সাসপেন্ড হয়েছেন। আর রাজন্যা, যিনি একসময় তৃণমূলের হাইকমান্ডের সামনে থাকতেন, এখন আরজি করের সময় সিনেমা বিতর্কের কারণে দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের শিকার হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে রাজন্যার দলবদল নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। সেই পরিস্থিতিতে তাঁকে বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষের প্যান্ডেলে দেখা গেলে রাজনৈতিক মহলে তা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজো নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক রয়েছে। সজল ঘোষ অভিযোগ করেছেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’ থিমের কারণে পুলিশ কিছুটা বাধা দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজন্যার উপস্থিতি অনেকের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ মনে হচ্ছে। তবু সজল এবং রাজন্যা উভয়ই এটিকে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখার বিরোধী। সজল এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “রাজন্যা আমার বোনের মতো। আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। এখানে রাজনীতি খোঁজার কোনো কারণ নেই।”
রাজন্যা নিজেও প্যান্ডেলে উপস্থিত হওয়ার কারণ নিয়ে বলেছেন, “অপারেশন সিঁদুর আবেগঘন বিষয়। এখানে আগেও এসেছি। পুজো নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়।” প্রান্তিকও জানিয়েছেন, “এখানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। ৮০ শতাংশ প্যান্ডেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাট আউট রয়েছে। যদি নরেন্দ্র মোদীর ছবি থাকে, তার মানে সবাই কি বিজেপি?”
আরও পড়ুনঃ ট্রাম্পের কঠোর শুল্কের পর চিন দিল বড় ইঙ্গিত, ভারতীয় ওষুধে শুল্ক শূন্য!
রাজন্যার এই আচরণ রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। যদিও উভয় পক্ষই এটিকে সাধারণ পুজো দর্শনের অংশ বলছেন, তবুও ভোটের আগে এই ধরনের পদক্ষেপ সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনা উস্কে দিতে পারে। রাজন্যার ভিজিট রাজনৈতিক দিক থেকে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে, তা সময়ই বলবে, তবে বর্তমানে এটি নিঃসন্দেহে আনন্দ আর বিতর্কের মিশ্রণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।





