তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই প্রথম গালওয়ান সীমান্তে চীনা জওয়ানদের হতাহত হওয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করল জিনপিংয়ের দেশ।
চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস সূত্রে জানানো হয়েছে, কারাকোরাম পর্বতমালায় মোতায়েন মোট ৪ সামরিক বাহিনীর আধিকারিকের মৃত্যুর খবর স্বীকার করেছে চীনের ‘সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন’।
‘দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায়’ ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে প্রাণ হারানো ওই সৈনিকদের শহিদের তকমা দিয়েছে কমিউনিস্ট দেশটি। ‘গ্লোবাল টাইমস’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গালওয়ানে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন জিনজিয়াং মিলিটারি কমান্ডের রেজিমেন্টাল কমান্ডের কুই ফাবাও। ‘দেশের সীমানা রক্ষায়’ সাহসিকতার পরিচয় দেওয়ার জন্য তাঁকে ‘হিরো রেজিমেন্টাল কমান্ডার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। নিহত চেন জিয়াংগ্রনগ, জিয়াউ সিইউয়ান ও ওয়াং ঝউরানকেও ‘ফার্স্ট ক্লাস মেরিট’ অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে লালফৌজ। এর আগে মৃত সৈনিকদের নাম প্রকাশ না করায় দেশের মধ্যেই বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল শি জিনপিং প্রশাসনকে। তাই চাপের মুখেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, লাদাখে দুই দেশের সীমান্তে লালফৌজ আগ্রাসন দেখালেও চীনা সংবাদমাধ্যমে ভারতকেই দোষারোপ করা হয়েছে।
চীনের দাবি, আগে হামলা চালিয়েছিল ভারতীয় ফৌজ। তারই জবাবে পাল্টা আক্রমণ করে নাকি চীন। কিন্তু এই দাবির মধ্যে কতটুকু বাস্তব আছে তা তদন্ত সাপেক্ষ।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত বছর থেকেই উত্তপ্ত লাদাখ সীমান্ত। কার্যত যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয় ভারত চীন দেশের মধ্যে। গত বছর জুন মাসে গালওয়ান উপত্যকায় দু’দেশের সেনা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল। ভারতের ২০ জন সেনা তাতে শহিদ হলেও, মোট কতজন চীনা সৈন্য ওই ঘটনায় হত হয়েছিলেন? তা কখনওই প্রকাশ্যে আনেনি বেজিং। কিন্তু কয়েকদিন আগেই রাশিয়ার একটি সংবাদমাধ্যম দাবি করে, গালওয়ান সংঘর্ষে ৪৫ জন চীনা সৈন্য মারা গিয়েছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সূত্রে জানানো হয়েছিল সংঘর্ষে অনেক চীনা সেনাই মারা গেছে এবং সেই সংখ্যা ভারতের থেকে অনেক বেশি।





