রাজনীতি মানেই চমক। কখন কোন সিদ্ধান্ত সংবাদমাধ্যমে আগুন লাগিয়ে দেবে, তা আগে থেকে আন্দাজ করা যায় না। তবে সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের একটি নিয়োগ ঘিরে যেভাবে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা মার্কিন মুলুক ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও আলোড়ন ফেলেছে। সাধারণত এমন গুরুত্বপূর্ণ প্যানেলে নিযুক্তির ক্ষেত্রে অতীত, যোগ্যতা এবং জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। অথচ এবার এমন দু’জনকে নিয়ে আসা হয়েছে প্রশাসনিক পরামর্শদাতা বোর্ডে, যাঁদের একজনের নাম সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে একাধিকবার উঠে এসেছে!
যে সময়ে বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় উগ্রতা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রোজ যুদ্ধ চলছে, সেই সময় আমেরিকার মতো একটি দেশের প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে রীতিমতো আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কোনও ব্যক্তি অতীতে ভুল করেছেন, তার জন্য শাস্তিও পেয়েছেন, কিন্তু তা বলে তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী মঞ্চে বসানো? প্রশ্ন তুলছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। শুধু সাধারণ নাগরিকরাই নন, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।
কে এই ইসমাইল রোয়ার?
যাঁকে ঘিরে এত বিতর্ক, তাঁর নাম ইসমাইল রোয়ার। যদিও আগে তিনি পরিচিত ছিলেন রান্ডাল রোয়ার নামে। মার্কিন মুলুকে বেড়ে ওঠা এই ব্যক্তি ২০০০ সালে পাকিস্তানে যান এবং সরাসরি যুক্ত হন কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে। অভিযোগ, সেখানে তিনি প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন এবং কাশ্মীরে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে অংশ নেন। এমনকি ভারতীয় সেনার উপর গুলিও চালান। সেই সময় ভার্জিনিয়ায় একটি জিহাদি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অভিযোগেও তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
২০০৪ সালে মার্কিন আদালত তাঁকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। প্রায় ১৩ বছর কারাভোগের পর মুক্তি পান তিনি। যদিও এখন তাঁর দাবি, তিনি সম্পূর্ণভাবে নিজের ভুল বুঝেছেন এবং ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করছেন। বর্তমানে তিনি একটি ধর্মীয় সংস্থার ইসলামিক ফ্রিডম বিভাগে কাজ করছেন এবং তাঁর মতে, অতীতের ভুলের জন্য তিনি যথেষ্ট শাস্তি পেয়েছেন। তবে তাঁর অতীতের বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে আজও লস্কর-ই-তৈবার প্রতি একধরনের সহানুভূতি প্রকাশ পেয়েছে, যা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ থেকেই যায়।
আরও পড়ুনঃ Weather update : দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর সম্ভাবনা, কলকাতায় রবিবারেই ঝড়-বৃষ্টি! কী জানাল হাওয়া অফিস?
হোয়াইট হাউসের বোর্ডে নিয়োগ ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া
এই ইসমাইল রোয়ারকেই সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের অ্যাডভাইজরি বোর্ড অব লিডারশিপে নিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে বোর্ডে এসেছেন প্রখ্যাত ইসলামি পণ্ডিত শেখ হামজা ইউসুফও। এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন ট্রাম্পেরই ঘনিষ্ঠ ডানপন্থী নেত্রী লারা লুমার। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “যে মানুষ অতীতে লস্করের মতো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁকে হোয়াইট হাউসে বসানো মানে দেশের নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি চূড়ান্ত অপমান।” এখন দেখার, ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্ত কতটা প্রভাব ফেলবে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থানে।





