শিক্ষাক্ষেত্রের সমস্যা, সরকারি নিয়োগ নিয়ে অসন্তোষ—এ যেন রোজকার চেনা ছবি হয়ে উঠেছে। কিছু দিন অন্তর রাজ্যের কোথাও না কোথাও প্রতিবাদে ফেটে পড়ছেন চাকরি হারানো শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীরা। একদিকে আর্থিক অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন—এই অবস্থা আর কতদিন চলবে?
বিক্ষোভ গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন প্রশাসনের আচরণ নিয়ে। প্রতিবাদকে দমন করতে পুলিশের শক্তিপ্রয়োগ, আবার কিছু ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয়তা—দু’য়েরই নজির দেখা যাচ্ছে। ফলে আরও জোরালো হচ্ছে অভিযোগ, রাজ্য কি তবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকেও ভয় পাচ্ছে?
সম্প্রতি বিকাশ ভবনের সামনে চাকরি হারানো শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীদের এক বিশাল জমায়েত নজরে আসে। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার ২ হাজারের বেশি আন্দোলনকারী বিকাশ ভবনের গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়েন এবং ভবন ঘেরাও করার সিদ্ধান্ত নেন। এতে আটকে পড়েন শতাধিক সরকারি কর্মী। পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করতে গেলে উত্তেজনা ছড়ায়। যদিও পুলিশের দাবি, সাত ঘণ্টা বোঝানোর পরেও যখন পরিস্থিতি আয়ত্তে আসেনি, তখনই ‘প্রোটোকল মেনে ন্যূনতম বলপ্রয়োগ’ করা হয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেন পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। তিনি কলকাতা হাই কোর্টের উদ্দেশে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। সাংসদের অভিযোগ, ১৫ তারিখ রাতে বিকাশ ভবনের সামনে আন্দোলনকারীদের উপর ‘নির্মম অত্যাচার’ চালিয়েছে পুলিশ। তাঁর দাবি, অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন, যাঁদের অনেকের মাথা ও হাড়ে আঘাত লেগেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, পুলিশ নাকি টার্গেট করেছে মাথা ও স্পর্শকাতর অঙ্গগুলিকে। মহিলা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুরুষ পুলিশদের দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ White House: কাশ্মীরে গুলি চালানো অভিযুক্ত জিহাদি হোয়াইট হাউসে! ট্রাম্পের প্যানেল নিয়ে ফুঁসছে নিরাপত্তা মহল !
বিজেপি সাংসদ স্পষ্টভাবে অভিযোগ করেছেন, পুলিশের ভূমিকা শুধু মাত্র অতিরিক্ত বলপ্রয়োগেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং কিছু ক্ষেত্রে তা আইনভাঙার পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি আরও বলেন, যখন তৃণমূল নেতারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ‘দাদাগিরি’ দেখাচ্ছিলেন, তখন পুলিশ ছিল নিরব দর্শক। এতে মৌলিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ লঙ্ঘিত হয়েছে বলেই দাবি তাঁর। সবমিলিয়ে, আন্দোলন ঘিরে পুলিশের ভূমিকা, এবং প্রশাসনের ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাই কোর্টের হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। এখন দেখার, আদালত এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ নেয় কি না।





