বদলাতে গিয়েছিল প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা, চীন সম্পর্কে গালওয়ান উপত্যকা বিতর্কে জানাল বিদেশ মন্ত্রক

সকাল থেকেই গোটা দেশ উত্তপ্ত একটি খবরে। লাদাখে চীন দ্বারা সেনা আক্রমণে মারা গিয়েছেন একজন ভারতীয় সেনা অফিসার ও দুজন সেনা জওয়ান। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো ক্ষোভে ফুঁসছেন ভারতীয়রা। অবশেষে এই নিয়ে সরকারিভাবে বিবৃতি দিল ভারত। বিদেশমন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে চীন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বদলাতে গিয়েছিল গালওয়ান উপত্যকায়। এই নিয়েই গণ্ডগোল ঘটে সোমবার রাতে। অন্যদিকে চীন স্বাভাবিকভাবেই পুরো ঘটনার জন্য ভারতকে দায়ী করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক নিজেদের বিবৃতিতে বলেছে যে ভারত ও চীন পূর্ব লাদাখে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে আলোচনা চালাচ্ছে। ধাপে ধাপে কীভাবে সেনা কমানো হবে, ৬ জুনের বরিষ্ঠ কম্যান্ডারদের মধ্যে বৈঠকে তা ঠিক করা হয়েছিল। সেই বৈঠকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখাকে সম্মান করার যে সহমত হয়েছিল, তার লঙ্ঘন করেছে চীন বলছে বিদেশমন্ত্রক।

সোমবার সন্ধ্যা ও রাতে, ভয়ানক সংঘর্ষ হয় দুই দেশের সেনাদের মধ্যে। মারা যান ভারতের এক সেনা অফিসার ও দুই সেনা জওয়ান। হতাহত হয়েছেন চীনের সেনারাও। এই সংঘর্ষের কারণ হল চীন নিজের থেকে ওখানে যে স্ট্যাটাস কো আছে, সেটি বদলাতে গিয়েছিল। অর্থাৎ তারা ওখানে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখাটির সীমানা বদলাতে গিয়েছিল, এই অভিযোগ করছে বিদেশমন্ত্রক।

অন্যদিকে চীন অভিযোগ করছে সোমবার ভারতীয় সেনা দুই বার সীমান্ত পেরিয়ে বেআইনি কার্যকলাপে লিপ্ত ছিল ও আক্রমণ চালিয়েছিল চীনের উপর। যদিও চীনের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়েছে ভারত। নর্থব্লক বলেছে যে ভারত সীমান্ত পরিস্থিতি সবসময় খুব দায়িত্বশীল ভাবে সামলায়। সেই কারণে ভারত প্রকৃত সীমান্তরেখার নিজের দিকেই ছিল।

সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে ভারত বদ্ধপরিকর বলে এদিন ফের জানানো হয়। একই সঙ্গে বিভেদ মেটানোর জন্য আলোচনায় আগ্রহী ভারত। কিন্তু ভারতের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে যে কোনও আপোষ করা হবে না, এটা সাফ জানিয়ে দিয়েছে ভারত।

ঘটনার পর পরিস্থিতি শান্ত করতে দফায় দফায় ভারত-চীন সেনার মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। আলোচনার ফলাফল কী হয়েছে তা এখনো জানতে পারা যায়নি।  যদিও চীন সেনা এই দিন দাবি করেছে, লাদাখের গালওয়ান উপত্যকা চিরকালই তাদের ছিল। বাস্তবিক অর্থে ঘটনাপ্রবাহ এখন যেদিকে যাচ্ছে তাতে আগামীদিনে যে ভারত-চীনের মধ্যে দ্বন্দ্ব দ্রুত কমবে, সেই সম্ভাবনা ক্রমশই ক্ষীণ হচ্ছে, মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

আরও অন্যান্য খবর