কাশ্মীরে পর্যটকদের উপর জঙ্গি হামলার জেরে ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা ভারত। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ভারত সরকার পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেল বন্ধ করে দিয়েছে। আর এতেই অস্বস্তিতে পড়েছে পাক বিনোদন দুনিয়া। কারণ, ইউটিউবেই ভরসা করে তাঁদের রোজগার। ভারতীয় দর্শকই ছিল মূল উপার্জনের উৎস। আর সেই ভিউ বন্ধ হওয়ার পর থেকেই কার্যত ভিখারির দশা পাকিস্তান ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির। মুখে শান্তির বুলি আওড়ালেও ভারতীয় দর্শক হারিয়ে একপ্রকার আর্তনাদ শুরু করেছেন সেখানকার অভিনেতা-অভিনেত্রীরা।
এই পরিস্থিতিতে পাক সেনার বিরুদ্ধেই মুখ খুলেছেন সেখানকার বেশ কয়েকজন তারকা। সরাসরি বলছেন—কাশ্মীরের হামলার জন্য দায়ী ইসলামি সন্ত্রাসবাদ এবং পাক আর্মি। অথচ শাস্তি পেতে হচ্ছে সাধারণ শিল্পীদের। বিনোদনের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন এখন কার্যত ভিনদেশের দর্শকের দয়ায় বেঁচে থাকেন। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক সন্ত্রাসে আমরা নেই, তবু ভোগান্তি আমাদের হচ্ছে কেন? তাঁদের মতে, পাক সেনার জন্য গোটা শিল্প জগৎকে আজ ভুগতে হচ্ছে, অথচ দোষীরা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
ভারতের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমির। তাঁর দাবি, “কাশ্মীরের জঙ্গি হামলার জন্য সাধারণ শিল্পীরা কেন শাস্তি পাবেন? দয়া করে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল খুলে দিন।” ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে হানিয়ার আরজি—“আমরা পাকিস্তানের সাধারণ নাগরিক। আপনার দেশের সঙ্গে আমাদের কোনও শত্রুতা নেই। বরং আমরা চেয়েছি ভালোবাসা বিনিময় হোক। পাকিস্তানি সেনা ও সন্ত্রাসীদের কারণে যদি কিছু ঘটে, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। আমাদের মতো সাধারণ মানুষ কেন বলির পাঁঠা হব?”
এখানেই থামেননি হানিয়া। তিনি আরও বলেন, “আমাদের ইউটিউব ইনকামের অনেকটাই আসে ভারত থেকে। যদি সেটা বন্ধ করে দেন, তাহলে আমাদের রুজি-রুটি কোথা থেকে আসবে? কি করে বাঁচব আমরা?” তাঁর মতে, “পাকিস্তানি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির একটা বড় অংশ ভারতীয় দর্শকদের উপর নির্ভর করে বেঁচে আছে। সেটা যদি বন্ধ হয়, তাহলে আমরা একপ্রকার ভিখারি হয়ে যাব।
আরও পড়ুনঃ Weather update : মে মাসের শুরুতেই দুর্যোগের থাবা! আজ থেকেই শুরু ঝড়বৃষ্টির দাপট, চলবে ৭ মে পর্যন্ত!
পাক অভিনেত্রীদের মতে, দুই দেশের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান বন্ধ হলে লাভবান হবে শুধুই সন্ত্রাসবাদীরা। হানিয়া ও অন্যান্য তারকারা বারবার বলছেন—সন্ত্রাস নয়, দরকার শান্তি ও সংযোগের। তবে ভারতের সিদ্ধান্ত কতটা বদলাবে বা এই ‘ভিখারি অবস্থা’ কাটবে কিনা, তা সময়ই বলবে। আপাতত পাকিস্তানের বিনোদন জগৎ কাতরভাবে চাইছে—ইউটিউব চ্যানেল খুলে দিন, ভিউ দিন, নইলে চলবে না।





