গত কয়েকদিন ধরে চড়া রোদের তাপ আর প্যাচপ্যাচে গরমে নাভিশ্বাস উঠেছে রাজ্যবাসীর। দুপুর গড়ালেই যেন জ্বলন্ত আগুনের মতো রাস্তা, ছাতা কিংবা সানগ্লাসেও মিলছিল না স্বস্তি। শহর থেকে মফস্বল—সবখানেই ঘামে ভেজা শরীরে নাজেহাল মানুষ। শিশুরা স্কুলে যেতে কষ্ট পাচ্ছে, অফিসফেরত যাত্রীদের দুর্ভোগও সীমাহীন। এমতাবস্থায় আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামলে খানিকটা স্বস্তি মিললেও, সেই স্বস্তি এবার নিয়ে আসতে চলেছে নতুন দুর্যোগ।
এমন এক পরিস্থিতিতে মে মাসের প্রথম দিনেই ফের সক্রিয় হল নিম্নচাপ। সকাল থেকেই আকাশ ঢাকা মেঘে, শহরের অলিগলি যেন আলোহীন সন্ধ্যা। অনেকেই ভাবছেন—এই কি তবে গ্রীষ্মের শেষে আশার বার্তা? কিন্তু বৃষ্টির সঙ্গে এবার যোগ হতে চলেছে ঝড়, বজ্রপাত আর উত্তাল সমুদ্র। স্বস্তির জলে এসে নেমে পড়তে পারে নতুন বিপদের ছায়া। আবহাওয়াবিদদের মতে, পরিস্থিতি যতটা শান্ত মনে হচ্ছে, ততটাই উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েকদিন।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ ১ মে থেকেই রাজ্যের সব জেলায় বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে দক্ষিণবঙ্গে জারি হয়েছে ‘কমলা সতর্কতা’। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বজ্রবিদ্যুৎ সহ ৪০–৫০ কিমি বেগে বইতে পারে দমকা ঝোড়ো হাওয়া। বেশ কিছু এলাকায় কালবৈশাখীর সম্ভাবনা রয়েছে, সঙ্গে শিলাবৃষ্টির আশঙ্কাও। এই পরিস্থিতিতে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বাড়তে পারে জলস্ফীতি, বঙ্গোপসাগর হয়ে উঠতে পারে উত্তাল। ওড়িশা এবং বাংলা উপকূলে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
শুধু দক্ষিণবঙ্গই নয়, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও থাকবে বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টি। আজ বৃষ্টি কিছুটা কম হলেও, শুক্রবার থেকে পরিস্থিতি রূপ নিতে পারে নতুন রূপে। বিশেষ করে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার—এই এলাকাগুলিতে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। তবে আগামী পাঁচ দিন রাজ্যে তাপমাত্রার বড় পরিবর্তন না হলেও, সন্ধ্যা বা রাতের দিকে বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে বলেই জানিয়েছে মৌসম ভবন।
আরও পড়ুনঃ Astrology : চাঁদ ও মঙ্গলের যুতি, গড়ে উঠছে মহাযোগ! কোন ৪ রাশি জাতকের কপালে ধন-সম্পদের বৃষ্টি?
আবহাওয়া দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, আজ থেকে পরবর্তী তিনদিন রাজ্যে জারি থাকবে ঝড়বৃষ্টির দাপট। এরপর কিছুটা কমলেও, ৭ মে পর্যন্ত সন্ধ্যা বা রাতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে বিভিন্ন জেলায়। বিশেষত দমকা হাওয়ার সঙ্গে বজ্রপাত এবং কালবৈশাখীর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে আবারও। অর্থাৎ গ্রীষ্মের দাবদাহ থেকে সাময়িক মুক্তি মিললেও, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মুক্তি আপাতত নেই—সাবধান থাকাই শ্রেয়।





