আফগানিস্তান দখল করেছে তালিবানরা। কাবুলের নানান ভিডিও এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। কোথাও দেখা জাচাছে প্রকাশ্যেই মানুষের উপর গুলি চালাচ্ছে তালিবানরা। কাবুল বিমানবন্দরে দেখা যাচ্ছে এক ভয়ানক চিত্র।
দেশছাড়ার তাগিদে বিমানে ওঠার জন্য মরিয়া মানুষ। উপায় না পেয়ে বিমানের গায়েই চড়ে বসে মানুষ। মাঝ আকাশে উড়ন্ত বিমান থেকে পড়ে যেতেও দেখা যায় একাধিক মানুষকে।
তবে এসবের মধ্যে শোচনীয় অবস্থা হয়েছে হিন্দুদের। নাগাড়ে চলছে হিন্দু হত্যা। ১৯৭০ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আফগানিস্তানে হিন্দুদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৮০ হাজার। কিন্তু এখন তা এসে ঠেকেছে মাত্র ৫০-এ। বেশিরভাগ হিন্দুদেরই মেরে ফেলা হয়েছে আর তা না হলে তাদের ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য করা হয়েছে।
হিন্দুদের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানে জিহাদ ঘোষণা করেছে তালিবানরা। হিন্দুদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তাদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতেই হবে, নাহলে মৃত্যুবরণ করতে হবে। আফগানিস্তানে সারিয়া আইন জারি করা হয়েছে তালিবানদের তরফে। এই আইন অনুযায়ী, হিন্দুদের সঙ্গে পশুদের মতো আচরণ করা হবে ও তাদের মুণ্ডচ্ছেদ করা হবে।
আরও পড়ুন- তালিবানের কবজায় কাবুল, প্রাণ বাঁচাতে রাস্তায় দৌড়চ্ছেন চিত্র পরিচালক সাহারা করিমি, ভাইরাল সেই ভিডিও
এছাড়াও, হিন্দুদের উপর প্রযোজ্য হয়েছে জাজিয়া কর। এর জেরে ওই দেশে হিন্দুদের স্থান হবে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকদের মতো ও তাদের মুসলিমদের থেকে নিচু স্তরের মানা হবে। হিন্দুরা আফগানিস্তানে ৭০০০ বছর ধরে রয়েছে, ইসলাম ধর্মের আগে থেকেও হিন্দু ধর্ম বিরাজ করছে আফগানিস্তানে। কিন্তু আর কিছুদিনের মধ্যেই এই ঐতিহাসিক ঐতিহ্য মাটিতে মিশে যাবে।
শুধু হিন্দুরাই নয়, অন্যান্য ধর্মের মানুষেরও এবার সচেতন হওয়া উচিত তালিবান সম্বন্ধে। কারণ তালিবানরা শুধু আফগানিস্তানই নয়, গোটা বিশ্বে ইসলাম ধর্ম প্রযোজ্য করতে চায়।
এই কারণে আফগানিস্তানে আটকে থাকা হিন্দুদের দ্রুতই দেশে ফেরাতে উদ্যত হয়েছে ভারত সরকার। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে যে যে সমস্ত হিন্দু বা ভারতীয় ভারতে ফিরে আসতে চান, তাদের সবরকমভাবে সাহায্য করবে ভারত সরকার।





