LPG Crisis: ভারতে আসছে ১৭৬ হাজার টন এলপিজি এবার কি শেষ হবে দেশের গ্যাস সঙ্কট? আমেরিকা, রাশিয়া ও জাপান থেকে নতুন সরবরাহের মধ্য দিয়ে কি রান্নাঘরে স্বস্তি আসছে?

ভারতের রান্নাঘরে কয়েক মাস ধরেই এলপিজির (LPG) সরবরাহ নিয়ে উত্তেজনা চলছে। মাঝরাতেও কিছু জায়গায় গ্যাস সিলিন্ডার শেষ হয়ে যাওয়া, দাম বেড়ে যাওয়া – সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করছে। কিন্তু এই সমস্যার পেছনে শুধু দেশীয় চাহিদা নয়, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কটও বড় ভূমিকা রাখছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে এলপিজি আসার সময় কমে গিয়েছিল ৭-৮ দিনে, কিন্তু এখন আমেরিকা, রাশিয়া ও জাপান থেকে এলপিজি নিয়ে জাহাজ আসতে সপ্তাহের নয়, মাসের পর মাস সময় লাগছে।

গত কয়েক সপ্তাহে সঙ্কট ক্রমেই বাড়ছে। একদিকে এলপিজির ঘাটতি, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি। ভারতের হাতে এখন বিকল্প উপায় হিসেবে আমেরিকা, রাশিয়া ও জাপান থেকে এলপিজি আমদানির চেষ্টা চলছে। তবে সমুদ্রপথে ৪৫ দিন সময় লাগছে আমেরিকা থেকে এলপিজি আনতে, আর রাশিয়া ও জাপান থেকে ৩৫-৪০ দিন। ফলে রাতারাতি সমস্যার সমাধান সম্ভব হচ্ছে না।

আশার খবর হলো, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে পৌঁছেছে প্রায় ২.৭ লক্ষ মেট্রিক টন এলপিজি। এই সরবরাহ কিছুটা চাপ কমিয়েছে। তবে একই সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, প্রতি লিটার ২২ টাকা বেড়েছে। ডলারের সঙ্গে টাকার মানও প্রভাবিত হচ্ছে, বর্তমানে প্রতি ডলার ৯৩.৭১ টাকায় নেমেছে। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ এবং পরিবহন খরচ মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনও জটিল।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূরাজনীতি। কাতার, সৌদি আরব, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর তেল-গ্যাস ক্ষেত্রগুলোতে সম্প্রতি ইরানের হামলার পর পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। এর ফলে ভারতের তেল ও গ্যাস আমদানি সরাসরি প্রভাবিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত কাতারের পরিবর্তে আমেরিকা থেকে এলপিজি ও অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি আমদানি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ “৪০ লক্ষে টিকিট কেনার অভিযোগ…তোলা তুলতে পারিনি বলেই টিকিট কাটা!”—নোয়াপাড়ায় বিস্ফো*রক অভিযোগ বিদায়ী বিধায়ক মঞ্জু বসুর! টাকার লেনদেন নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে নতুন বি*তর্ক!

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের বাজারে এলপিজির চাপ কমতে সময় লাগবে। সরবরাহ দ্রুত আসছে না, এবং আন্তর্জাতিক পরিবহন খরচ বাড়ছে বহু গুণ। সাধারণ মানুষের জন্য এখন কেবল অপেক্ষা আর ধৈর্যই সমাধান, যাতে রান্নাঘরে গ্যাসের ঘাটতি সাময়িক হলেও কমে আসে। তবে আশার দিক হলো, দেশে এলপিজি পৌঁছানোর নতুন উৎস কাজ করছে, যা ধীরে ধীরে বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে পারে।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles