রাজ্যে ভোটের আবহ তৈরি হতেই রাজনৈতিক মহলে অস্থিরতা যেন নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় অসন্তোষ, ক্ষোভ আর বিক্ষোভের ছবি সামনে আসছে। কোথাও কর্মীদের প্রতিবাদ, কোথাও আবার দলের ভেতরেই তৈরি হচ্ছে ফাটল—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়া কেন্দ্রকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধল। প্রার্থী তালিকায় হঠাৎ বদল, আর তার জেরেই সামনে এল একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ। দীর্ঘদিনের এক পরিচিত মুখ এবার টিকিট না পেয়ে সরাসরি মুখ খুললেন, যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
নোয়াপাড়ার বিদায়ী বিধায়ক মঞ্জু বসু এ বার প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন—প্রায় ৯৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে। এর আগে দলীয় টিকিটেই একাধিকবার লড়াই করেছেন তিনি। কিন্তু এবার তাঁর জায়গায় নতুন প্রার্থী হিসেবে তীর্থঙ্কর ভট্টাচার্যকে নামানো হয়েছে। এই পরিবর্তনের পরই সাংবাদিকদের সামনে ক্ষোভ উগরে দেন মঞ্জু।
তিনি অভিযোগ করেন, আগে থেকেই তাঁকে জানানো হয়েছিল যে এবার টিকিট মিলবে না। তাঁর দাবি, “রাজনীতিতে লেনদেনের একটা বিষয় কাজ করে। ২০১৮ সালেই সেটা প্রমাণ হয়েছে।” আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করে তিনি বলেন, দলেরই এক নেতার কাছ থেকে তিনি শুনেছেন যে টিকিট পেতে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে। এমনকি তিনি দাবি করেন, “আমি তোলা তুলতে পারি না, আর সেটাই আমার অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
আরও পড়ুনঃ “ও দারুণ সহ-অভিনেত্রী, কিন্তু আমরা বন্ধু নই, আমাদের মধ্যে ঝামেলা…” ‘মিঠাই’, সৌমিতৃষার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আদৃত রায়ের স্পষ্ট মন্তব্য!
এর পাশাপাশি, তিনি জানান যে অন্য দল থেকেও তাঁর কাছে প্রস্তাব এসেছিল। তবে অপমানিত বোধ করায় তিনি আর এই রাজনীতিতে থাকতে চান না বলেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “এইভাবে রাজনীতি করা সম্ভব নয়। যাঁরা এসব করতে পারবেন, তাঁরাই টিকিট পাবেন।” এই মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে দলের অন্দরের পরিস্থিতি নিয়ে, আর ভোটের আগে এই বিতর্ক কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।





