Indian envoy : পাকিস্তানকে চাপে ফেলতে তালিবানের সঙ্গে গোপন বৈঠক! ভারতের কূটনীতিতে নতুন ঝড়!

বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে বর্তমানে উত্তেজনার পারদ চড়ছে দক্ষিণ এশিয়ার দুই চিরশত্রু দেশ ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে। পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া নৃশংস হামলার পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকেছে। সাধারণ মানুষ থেকে কূটনৈতিক মহল— সকলের মনেই এখন একটাই প্রশ্ন, পরিস্থিতি এবার কোনদিকে মোড় নেবে? যুদ্ধের শঙ্কা, নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা নিষেধাজ্ঞার আবহে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন করে মেঘ জমতে শুরু করেছে।

যখন চারদিক উত্তেজনায় টগবগ করছে, তখন ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। ইতিহাস বলে, বড় সংকটে পড়লে অনেক সময়ই অপ্রত্যাশিত দিক থেকে সহায়তার খোঁজ করে রাষ্ট্রগুলি। আজকের দিনে এসে কি ভারতও সেই পুরনো কূটনীতির পথেই হাঁটছে? শত্রুর শত্রুকে বন্ধু করে নিজেদের রক্ষার ছক কষছে কি নয়াদিল্লি? এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে এখন আন্তর্জাতিক মহলে।

পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের ওপর নির্মম হামলার পরে ভারতীয় স্থলসেনা, নৌসেনা এবং বিমানবাহিনীকে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে তিন বাহিনীর তরফে যুদ্ধ মহড়াও শুরু হয়েছে, যার কিছু ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। পাকিস্তানকে চাপে রাখতে ইতিমধ্যেই নয়াদিল্লি বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, পাল্টা দিয়েছে ইসলামাবাদও। এই টানাপোড়েনের মাঝেই এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে— কাবুলে গিয়ে তালিবান বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকের বিশেষ প্রতিনিধি আনন্দ প্রকাশ। যদিও বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য এবং যান চলাচল নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে, তবে ভেতরের গল্প অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান বা চাপ তৈরি করতে গেলে ভারতের আফগানিস্তানের সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। কারণ ভূগোলগত দিক থেকে আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান সংলগ্ন, এবং তালিবান শাসনাধীন আফগানিস্তান এখন পাকিস্তানের সাথে প্রায় প্রকাশ্য বিরোধে লিপ্ত। তাই তালিবানের সাহায্য পেলে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করা ভারতের পক্ষে অনেক সহজ হবে। এই অবস্থায় তালিবান নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা এবং সম্পর্ক মজবুত করা ভারতের জন্য অত্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল।

আরও পড়ুনঃ মৃত্যুর পর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে হঠাৎ তিলোত্তমা বেরিয়ে গেলেন কীভাবে? কারা তার ফোন ব্যবহার করল? এবার আদালতের জমা পরলো স্ক্রিনশট!

সব মিলিয়ে, পহেলগাঁও হামলার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কড়া পদক্ষেপের প্রস্তুতির মধ্যেই তালিবানের সঙ্গে ভারতের এই সদ্য গড়ে ওঠা ঘনিষ্ঠতা নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। চাণক্যের প্রাচীন কূটনীতির নীতিতে ভর করে “শত্রুর শত্রু” নীতিতে এগোতে চাইছে ভারত— এমনটাই বলছে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। আনন্দ প্রকাশের তালিবান নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক, আসলে সেই দিকেই কি বড় এক কৌশলগত ইঙ্গিত? এখন গোটা বিশ্বের চোখ ভারত-আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের দিকেই।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles