তিলোত্তমা হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি কলকাতা তথা গোটা রাজ্যে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এ ধরনের অপরাধ যে কোনো সমাজের জন্যই এক কঠিন প্রশ্ন তুলে ধরে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু কিছু এমন ঘটনা ঘটে যা সমাজকে শক করে দেয়, এবং একে পুরোপুরি অস্বাভাবিক বলে মনে হয়। তিলোত্তমা হত্যা মামলায় একের পর এক নতুন দিক উঠে আসছে, যা জনমানসে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে তার মৃত্যুর পর কীভাবে তার ফোন ব্যবহার করা হয়েছে, সেই প্রশ্ন ঘিরে এখন আদালতে চরম তর্ক-বিতর্ক চলছে। এই অভিযোগগুলো তিলোত্তমার পরিবারের পক্ষ থেকে আনিত হয়েছে, যার প্রেক্ষাপটে তদন্তের নানা দিক আরো স্পষ্ট হচ্ছে।
এখনো পর্যন্ত এই মামলায় পুলিশ এবং সিবিআই নানা তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে, কিন্তু তিলোত্তমার পরিবারের পক্ষ থেকে তোলা অভিযোগগুলি ঘটনার পুরো চিত্রটি আরও রহস্যময় করে তুলছে। এই ধরণের অভিযোগ সাধারণ জনগণের মধ্যেও নানা সন্দেহ এবং কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে এই ধরনের প্রযুক্তিগত প্রমাণ এতদিন পর সামনে আসছে, এবং এই প্রমাণগুলোর সত্যতা কী হতে পারে? মামলাটি কিভাবে এগোবে, সেটি এখন আদালতের উপর নির্ভর করছে।
তিলোত্তমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আদালতে এবার একটি নতুন চমকপ্রদ অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের আইনজীবী দাবি করেছেন, নির্যাতিতার মৃত্যুর পরেও তার ফোনটি ব্যবহার করা হয়েছে! তারা বলছেন, সিবিআই যখন ফোনটি হেফাজতে রেখেছিল, তখনই এই ফোনটি কোনোভাবে চালানো হয়েছে। এই অভিযোগ আদালতে জমা দেওয়া স্ক্রিনশটে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে যে, তিলোত্তমার মৃত্যুর কিছুদিন পর তার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে তার নামটি মুছে ফেলা হয়েছে। এটা যে কোনো সাধারন মানুষের জন্য একটি বড় চমক হতে পারে, তাও বলার অপেক্ষা রাখে না।
এদিকে, তিলোত্তমার পরিবারের আইনজীবী আরও দাবি করেছেন যে, সিবিআই হাইকোর্টে একরকম বক্তব্য রাখছে এবং শিয়ালদহ আদালতে আরেকরকম। এটি তদন্তের স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলছে। তার বক্তব্যে, “স্টেটাস রিপোর্টে যা বলা হচ্ছে, তার মধ্যে নানা মিথ্যা তথ্য গোপন করা হচ্ছে। আমরা সেগুলো যাচাই করতে চাই।’’ পাশাপাশি, তিলোত্তমার পরিবারের আইনজীবী একটি স্ক্রিনশটও আদালতে জমা দিয়েছেন, যেখানে পরিস্কারভাবে বলা হয়েছে, তিলোত্তমার মৃত্যুর পরে তার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে তার নাম মুছে ফেলা হয়েছে। এটি যে তথ্য লোপাটের প্রমাণ, সেই দাবি তিনি করেন।
তিলোত্তমা হত্যাকাণ্ডে সিবিআই তার তৃতীয় স্টেটাস রিপোর্ট আদালতে জমা দিয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নতুন করে ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে এবং শতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। সিবিআই জানিয়েছে, এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং ২০০টিরও বেশি ভিডিও ক্লিপ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যদিও পরিবারের পক্ষ থেকে এসব তদন্তের গতির বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, তবুও মামলার গভীরতা এবং প্রমাণ সংগ্রহের কাজ এগিয়ে চলছে।
আরও পড়ুনঃ Calcutta High Court : কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতিকে অপমান! আদালতের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, মামলা দায়েরের পথে!
মঙ্গলবার, তিলোত্তমার পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে একটি ‘সিনোপসিস’ জমা দেওয়া হয়, যাতে ঘটনার আগে এবং পরে কী কী ঘটেছিল, তার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। এই সিনোপসিসে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর থাকার দাবি করেছেন আইনজীবী। তবে সিবিআইয়ের আইনজীবী এর প্রমাণ গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তদন্ত আরও এগোলে হয়তো অন্ধকারে লুকানো কিছু সত্য সামনে আসবে, যেগুলি এ মামলাকে নতুন দিকে মোড় দিতে পারে।





