ছয়মাসে ২,৪৩২ বার ভারতে হানা পাক বাহিনীর! প্রতিবাদপত্র পাঠাল ক্ষুব্ধ ভারত

পাকিস্তান আছে পাকিস্তানেই। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রায় আড়াই হাজার বার নিয়ন্ত্রণরেখা ও আন্তর্জাতিক সীমান্তে সংঘর্ষবিরতি চুক্তিলঙ্ঘন করেছে এই পড়শি দেশ! এবার এই নিয়ে নিজেদের তীব্র ক্ষোভ লিখিত আকারে জানিয়েছে ভারত।

কেন্দ্রের শীর্ষস্থানীয় এক আধিকারিকের মারফত জানা গিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণরেখা ও আন্তর্জাতিক সীমান্তে মোট ২৪৩২ বার সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে পাক সেনাবাহিনী। মোট ১৪ জন ভারতীয় প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৮৮ জন।

পাকিস্তানকে পাঠানো এই প্রতিবাদপত্রে ভারত জানিয়েছে পাকিস্তানের এই কার্যকলাপ ২০০৩ সালে স্বাক্ষরিত হওয়ায় সংঘর্ষবিরতি চুক্তির সম্পূর্ণ পরিপন্থী নয়। পাক সেনা ভারতে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশের সাহায্য করছে। ভারতের দিকে গুলি চালিয়ে তারা অনুপ্রবেশকারী জঙ্গিদের রক্ষা করে চলেছে। ভারত এই ঘটনায় রীতিমত ক্ষুব্ধ তা ওই চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে ডিজিএমও পর্যায়ের বৈঠকে ভারত পাকিস্তানকে বারবার বারণ করেছে এইসব কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকতে। কিন্তু পাকিস্তান ভারতের এই কথা কর্ণকুহরে প্রবেশই করায়নি। উল্টে জম্মু-কাশ্মীরে নাশকতা চালানোর উদ্দেশ্যে নিয়ন্ত্রণ রেখা দিয়ে এ দেশে জঙ্গি অনুপ্রবেশে সাহায্য করেছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের আগস্ট মাসে কেন্দ্রীয় সরকার যখন জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে নেয় তখন থেকেই সীমান্তে গুলি চালানোর ঘটনা বাড়িয়ে দেয় পাকিস্তান। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে যেটুকু সৌহার্দ্য বজায় ছিল তা একেবারেই তলানিতে গিয়ে ঠেকে। নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর দুই দেশের মধ্যে প্রতিনিয়তই গুলিচালনার ঘটনা ঘটে।

এইসব ঘটনার মধ্যেই পাকিস্তানে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনে কর্মরত দুই ভারতীয়কে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে নৃশংস অত্যাচার করে পাকিস্তান।

জবাবে নয়াদিল্লির তরফে ইসলামাবাদকে জানিয়ে দেওয়া হয়, অবিলম্বে এদেশে পাক হাই-কমিশনের কর্মী সংখ্যা কমিয়ে ৫০ শতাংশ করতে হবে। কারণ, ওই কর্মীরা এদেশে চরবৃত্তি ও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে মদত করছে। একইভাবে, ভারতও পাকিস্তানে নিজেদের হাই কমিশন থেকে প্রায় অর্ধেক কর্মীকে ফিরিয়ে নিয়েছে। গত ৩০ জুন ওয়াঘা-আট্টারি সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবার ভারতে ফিরে আসেন।

এছাড়া সম্প্রতি করাচি স্টক এক্সচেঞ্জ বিস্ফোরণের ঘটনায় ভারত কে দায়ী করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
ইমরান খান। যে ঘটনায় ভারত রীতিমত ক্ষুব্ধ হয়েছে। নয়াদিল্লি সাফ জানিয়ে দিচ্ছে যে পাকিস্তানের ঘরোয়া সমস্যার দায়ও যদি ভারতের ঘাড়ে চাপায় পড়শি এই দেশ তবে তো ভীষণ মুশকিল। পাকিস্তানের যাবতীয় সমস্যার দায় যদি ভারতের ঘাড়ে চাপানো হয় তবে ভারত তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না এই কথা পাকিস্তানকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

RELATED Articles

Leave a Comment