সাধারণ নাগরিকের আতঙ্কে রাতের ঘুম উড়েছে রাত তখন গভীর। নিঃশব্দে ঘুমিয়ে পড়েছিল শহর, গ্রামের পাড়াগুলি। হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠল দেওয়াল, চমকে উঠল মা, কাঁদতে লাগল শিশু, প্রার্থনার স্থানে ছড়িয়ে পড়ল আতঙ্ক। রাতের অন্ধকারে এমন হামলার ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্কের পাহাড় তৈরি করে দেয়। যুদ্ধ শুধু সীমান্তে নয়, এর প্রভাব পড়ে প্রতিটি ঘরের শান্তিতে, প্রতিটি মানুষের মনোবলেই।
যুদ্ধ যখন ঘটে, তখন কেবল সৈনিক নয়, অসহায় সাধারণ নাগরিকরাও তার বলি হয়। ঠিক তেমনই ঘটেছে পাকিস্তানে। রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক স্তরে যখন উত্তেজনা চরমে, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। সীমান্তে যুদ্ধ, শহরে প্রার্থনার স্থানে হামলা—এগুলো কি শুধুই রাষ্ট্রের কৌশলগত খেলা? নাকি এর মাঝে হারিয়ে যাচ্ছে মানবিকতা?
এই আবহে, ইসলামাবাদের দাবি—ভারত এক রাতেই পাকিস্তানের ছ’টি জায়গায় ২৪টি হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিস পাবলিক রিলেশনস (ISPR) জানিয়েছে, মধ্যরাতে এই ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালানো হয়, যাতে অন্তত আট জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছে বহু মানুষ। বহাওয়ালপুর, মুজাফফরাবাদ, কোটলি, মুরিদকে, শিয়ালকোট, শাকারগড়—এই ছ’টি এলাকাকে নিশানা করা হয়। নিহতদের মধ্যে শিশু, মহিলা এবং কিশোর রয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান।
ISPR-এর ডিরেক্টর জেনারেল জানান, বহাওয়ালপুরের আহমেদপুরে শুভান মসজিদে চারটি স্ট্রাইকে পাঁচ জন মারা গেছেন, তাঁদের মধ্যে তিন বছরের শিশুও রয়েছে। মুজাফফরাবাদে বিলাল মসজিদেও সাতটি হামলা হয়েছে। কোটলি এলাকায় কিশোরী-যুবক সহ দু’জন নিহত এবং দু’জন আহত হয়েছে। মুরিদকেতে একজন নিহত, দু’জন নিখোঁজ। শিয়ালকোট এবং শাকারগড়েও হামলার খবর মিলেছে, যদিও হতাহতের কোনও খবর নেই। পাকিস্তান এই আঘাতকে ‘বিনাপ্ররোচনায় কাপুরুষোচিত’ বলে নিন্দা করেছে।
আরও পড়ুনঃ Operation Sindoor: জঙ্গি দমনেই কড়া বার্তা! অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানে গোপন হামলা চালাল ভারত!
ভারতের তরফে দাবি করা হয়েছে, পহেলগাঁও জঙ্গিহানার জবাবেই এই ‘অপারেশন সিঁদুর’। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতিতে জানানো হয়, সীমান্তে প্রতিটি ইউনিটকে সতর্ক রাখা হয়েছে। পাকিস্তান হামলা করলে পাল্টা জবাব প্রস্তুত। অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “কাপুরুষোচিত হামলার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। পুরো দেশ সেনার পাশে আছে। শত্রুর অসৎ লক্ষ্য সফল হতে দেব না।” ইতিমধ্যে পুঞ্চ-রাজৌরি এলাকায় সংঘর্ষবিরতি ভেঙে পাকিস্তান গোলাবর্ষণ শুরু করেছে। ভারতও তার জবাব দিতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি এবার স্পষ্টতই উত্তপ্ত—যুদ্ধের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।





