Operation Sindoor: জঙ্গি দমনেই কড়া বার্তা! অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানে গোপন হামলা চালাল ভারত!

শেষ কয়েক দিন ধরে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে যে উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছে, তা যেন বিস্ফোরণের দিকেই এগোচ্ছিল। পুলওয়ামা হোক বা উরি, অতীতে ভারতের অভ্যন্তরে পাকিস্তানঘেঁষা জঙ্গি কার্যকলাপ এবং বর্তমানে পাহেলগাম, এই সমস্ত কিছুই বরাবরই উত্তপ্ত করেছে পরিস্থিতি। সাধারণ মানুষও চরম উদ্বেগে—বারবার কেন এই দেশের মাটিতে রক্ত ঝরবে? তবে এবার দেশের তরফ থেকে কড়া জবাবের অপেক্ষায় ছিল গোটাদেশ। পহেলগাঁওয়ে নিরীহ হিন্দু তীর্থযাত্রীদের উপর হামলার পর থেকেই দেশজুড়ে ছিল একটাই প্রশ্ন—পাল্টা জবাব কবে?

সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ ছড়িয়েছে আগুনের মতো। “চুপ করে বসে থাকলে চলবে না”, এমন মন্তব্যে ভরে গিয়েছিল এক্স হ্যান্ডেল বা ফেসবুক টাইমলাইন। একদিকে নাগরিকদের ক্ষোভ, অন্যদিকে রাজনৈতিক চাপ—সবমিলিয়ে প্রত্যাঘাত শুধু সময়ের অপেক্ষা ছিল। কেন্দ্র আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, আঘাতের উত্তর পছন্দের সময়ে ও স্থানে দেওয়া হবে। কিন্তু কোথায়, কীভাবে, কখন সেই আঘাত হবে, তা কেউ জানত না। সবাই অপেক্ষায় ছিল—কবে পড়বে সেই বজ্রাঘাত?

মক ড্রিল, mock drill, দেশজুড়ে মহড়া

শেষমেশ সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটল মঙ্গলবার রাত পেরিয়ে। এক্স হ্যান্ডেলে ভারতীয় সেনার তরফে জানানো হয়, মধ্যরাতে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে একযোগে চালানো হয়েছে ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক’। হঠাৎ করেই রাতের আকাশে গর্জে ওঠে ক্ষেপণাস্ত্র, কেঁপে ওঠে বহাওয়ালপুর ও মুজফ্‌ফরাবাদের একাধিক এলাকা। যদিও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে নির্দিষ্ট কোনও শহরের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্তত ৯টি স্থানে টার্গেট করা হয় জঙ্গি ঘাঁটি।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, এই স্ট্রাইকে পাকিস্তানের সেনাঘাঁটি নয়, শুধুমাত্র সন্ত্রাসবাদীদের ঘাঁটিগুলিকেই নিশানা করা হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে—“আমাদের পদক্ষেপ সুনির্দিষ্ট, পরিমিত এবং অপ্ররোচনামূলক।” যারা ভারতে হামলার ছক কষছিল, বা ছক বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছিল, তাদেরই টার্গেট করা হয়েছে। এই পুরো অভিযানে ভারত দেখিয়েছে সংযম এবং কৌশলী পরিকল্পনার নিখুঁত বাস্তবায়ন। সেনা সূত্রে আরও দাবি—এই হামলা ছিল সম্পূর্ণ সফল এবং প্রতিটি টার্গেট ধ্বংস হয়েছে।

আরও পড়ুন: যুদ্ধ মানেই ভারতের জয়, বারবার কাঁদতে হয়েছে পাকিস্তানকে সীমান্তে!

এই পুরো অভিযানটির কোডনেম ছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। নামের মধ্যেই রয়েছে প্রতীকী তাৎপর্য—শক্তি, আত্মবিশ্বাস ও রক্তের বিনিময়ে সম্মান রক্ষা। যদিও পাকিস্তানের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই হামলায় কয়েকজন বেসামরিক নিহত হয়েছেন, এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তারা ভারতের পাঁচটি যুদ্ধবিমান গুঁড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে এই দাবি নাকচ করা হয়েছে। এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে—যুদ্ধের পথে এগোচ্ছে না তো দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ? তবে স্পষ্ট, ভারত কেবল প্রতিশোধ নয়, বার্তা দিতে চেয়েছে—জঙ্গি কার্যকলাপের জবাব এবার জোরালো।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles