সীমান্তের ওপারে গুলি, মর্টার আর রকেট লঞ্চারের শব্দে অভ্যস্ত দুই দেশের সীমান্তবাসীরা। কিন্তু এখন যুদ্ধ শুধু বন্দুকের নল দিয়েই নয়, আরও সূক্ষ্ম পথে লড়াই চালাচ্ছে ভারত। পাকিস্তানকে কাবু করার জন্য এবার নয়াদিল্লি বেছে নিচ্ছে এক নতুন অস্ত্র—‘অর্থনৈতিক অবরোধ’। অনেকের মতে, যুদ্ধের চাইতে এই রণকৌশল অনেক বেশি কার্যকর, কারণ গুলি লাগে গায়ে, কিন্তু ভাতে আঘাত লাগে পেটে!
জীবনযুদ্ধ লড়তে যেমন মানুষের দরকার খাদ্য, তেমনই দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে দরকার আন্তর্জাতিক অর্থসাহায্য। বহু বছর ধরেই পাকিস্তানের এই বেঁচে থাকার টোটকা হল বিশ্বব্যাঙ্ক ও IMF-এর মতো সংস্থার অনুদান। আর সেই জলের কল বন্ধ করার চেষ্টাতেই এবার কোমর বেঁধে মাঠে নামল ভারত। লক্ষ্য একটাই—জঙ্গিদের আশ্রয়দাতা পাকিস্তানের নাড়িতে টান দেওয়া।
ভারতের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, পাকিস্তান শুধু জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় নয়, বরং তাদের প্রশিক্ষণ ও অর্থসাহায্যের উৎসও বটে। আইএসআই এবং পাক সেনার সক্রিয় সহযোগিতায় এই জঙ্গিরা ভারতের বুকে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। এবার এই বিষয়টি সামনে এনে ভারতের কূটনৈতিক দফতর বিশ্বব্যাঙ্ককে অনুরোধ জানাতে চলেছে, যাতে পাকিস্তানকে ২০ বিলিয়ন ডলারের অনুদান না দেওয়া হয়। পাশাপাশি, ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্স (FATF)-এর কাছেও দরবার করবে ভারত, যাতে পাকিস্তানকে আবার ‘গ্রে লিস্ট’-এ ফেরা হয়।
আগামী জুন মাসে বিশ্বব্যাঙ্ক পাকিস্তানকে ২০০০ কোটি ডলারের সাহায্য দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। সেই বৈঠকের আগেই ভারতের তরফে জোরালোভাবে তোলা হবে জঙ্গি মদতের অভিযোগ। FATF-এর আগামী বৈঠকেও পাকিস্তানকে ফের ধূসর তালিকাভুক্ত করার দাবিতে সরব হবে ভারত। কারণ একবার ‘গ্রে লিস্ট’-এ গেলে আন্তর্জাতিক অর্থসাহায্যের পথ অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাবে ইসলামাবাদের জন্য।
আরও পড়ুনঃ Bangladesh: প্রশাসনে ভাঙন, সেনার চাপ তুঙ্গে! হতাশ ইউনুসের পদত্যাগের ইঙ্গিতে তোলপাড় ঢাকা!
পাকিস্তান আগে একবার ২০১৮ সালে FATF-এর ধূসর তালিকায় ঢুকেছিল। তবে ২০২২ সালের অক্টোবরে সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। এবার ভারতের লক্ষ্য সেই পুরনো অবস্থায় ফেরানো। যদিও IMF থেকে পাকিস্তান সম্প্রতি ৮,৫০০ কোটি টাকার ঋণ পেয়েছে, তবুও ভারতের এই নতুন কূটনৈতিক চাল পাক সরকারের ঘুম কাড়তে বাধ্য। কারণ যুদ্ধ যদি ভাতে হয়, তাহলে সে লড়াইয়ে প্রতিরোধের শক্তিও ফুরিয়ে আসে ধীরে ধীরে। তাই এবার নয়াদিল্লির লক্ষ্য, গুলি নয়, ভাতের থালায় আঘাত করেই শেষ হাসি হাসা।





