বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা যেন দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ঢাকার রাজপথে আন্দোলন, যানজট, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ—সব মিলিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত। সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন, এই অবস্থার শেষ কোথায়? প্রতিদিন নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে প্রশাসনের সিদ্ধান্তহীনতা। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে, নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে মানুষজনের। এই অবস্থায় যদি প্রশাসনের প্রধান পদেই টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে?
এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসক পদে রয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনুস। তাঁর নিয়োগের সময় যে আশার আলো দেখেছিল জনগণ, এখন তার অনেকটাই ম্লান। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তাঁর হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠে যাচ্ছে। তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে উঠেছে ব্যর্থতার অভিযোগ। এমনকি রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তার আবহে ধীরে ধীরে হতাশ হয়ে পড়ছে।
এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎই ছড়িয়ে পড়ে একটি খবর—মহম্মদ ইউনুস পদত্যাগের কথা ভাবছেন! এমনকি জানা যায়, রাতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাহিদ জানান, ইউনুস নিজেই তাঁকে বলেছেন, “কাজ করতে না পারলে থেকে কী লাভ!” এমন মন্তব্য থেকেই জল্পনা আরও গভীর হয়। এরপরেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক ডাকেন ইউনুস। প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’-র দাবি অনুযায়ী, ওই বৈঠকেই তিনি স্পষ্ট করে জানান, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ঐক্যমত্য নেই, রাস্তায় প্রতিদিনের আন্দোলন, প্রশাসনের সহায়তা না পাওয়া—সব মিলিয়ে তাঁর পক্ষে দায়িত্ব পালন প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউনুসের পদত্যাগের ইচ্ছার পিছনে রয়েছে সেনা ও কিছু রাজনৈতিক দলের চাপ। বিশেষত, দেশের সেনাপ্রধান সম্প্রতি ইউনুসকে হুমকি দিয়েছেন, অবিলম্বে নির্বাচন না হলে তাঁরা নিজেরাই ক্ষমতা গ্রহণ করবেন। একদিকে বিএনপি, অন্যদিকে সেনা—এই দুই দিক থেকেই চাপ তৈরি হচ্ছে। অথচ নির্বাচন আয়োজনের মতো পরিবেশ নেই বলেই দাবি করছেন ইউনুস। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যালট ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটলে প্রশাসন তা ঠেকাতে পারবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Child suicide : চিপস কুড়িয়ে নেওয়ার সাজা মৃত্যু! সিভিক ভলান্টিয়ারের হাতে লাঞ্ছিত হয়ে আত্মঘাতী সপ্তম শ্রেণির কৃষ্ণেন্দু!
ইউনুসের পদত্যাগের খবর সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। অনেকেই মনে করছেন, এটি আসলে তাঁর কৌশলী চাল। ব্যর্থতার দায় এড়াতে ও সহানুভূতি কুড়িয়ে আরও কিছুদিন কুর্সিতে থাকার চেষ্টা করছেন তিনি। আবার কেউ কেউ বলছেন, সত্যিই হয়তো তিনি ভীষণভাবে হতাশ ও ক্লান্ত। তবে যাই হোক না কেন, এই পদত্যাগ ঘিরে দেশের প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ এখন বিশাল অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে। দেশের মানুষ আপাতত শুধু চেয়ে আছে—আসন্ন দিনগুলো কী বার্তা বয়ে আনবে বাংলাদেশের জন্য?





