ভাগ্যের অদ্ভুত পরিহাস! ইরানের শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি মোল্লা ওমর ইরানি (Mullah Omar Irani)-কে মরতে হল পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর গুলিতেই। এই জঙ্গিই ইরানের ছাবাহার এলাকা থেকে প্রাক্তন ভারতীয় নৌ আধিকারিক কুলভূষণ যাদবকে অপহরণ করে পাকিস্তানী সেনার হাতে তুলে দিয়েছিল। আর আজ তারই প্রতিদান দিল পাকিস্তান! ইমরান খানের দেশের তরফের ওই জঙ্গিকে নিকেশ করার কথা ঘোষণা করে একে বড় সাফল্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জঙ্গিদের সঙ্গে পাক সেনার গুলির লড়াইয়ে ওমর ইরানির দুই ছেলেও নিকেশ হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পাকিস্তানের সরকার কুলভূষণ যাদব (Kulbhushan Jadhav)-কে সেদেশে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটক করার কথা বললেও বিষয়টি মিথ্যে বলে দাবি ভারতের। নয়াদিল্লির অভিযোগ, ব্যবসার কাজে ইরানের ছাবাহার এলাকায় থাকা কুলভূষণকে ইরান-পাকিস্তান সীমান্ত থেকে অপহরণ করে পাক সেনার হাতে তুলে দিয়েছিল ওই ওমর ইরানিই। এর জন্য পাক সেনার কাছ থেকে প্রচুর টাকাও পেয়েছিল সে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ইরান (Iran)-এর অন্যতম কুখ্যাত জঙ্গি মোল্লা ওমর ইরানি জশ ‘উল আদাল’ নামে একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রধান। ইরানে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন নাশকতার ঘটনার পিছনে এই সন্ত্রাসবাদীরই মূল হাত ছিল। এর পাশাপাশি পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর হয়েও কাজ করত সে। সম্প্রতি তাকে গ্রেপ্তার করে ইরানের প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায় তেহরান। এর ফলে বাধ্য হয়ে মোল্লা ওমর ইরানিকে খতম করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ও সেনাবাহিনী।
তার ভিত্তিতেই গত ১৭ই নভেম্বর বালোচিস্তান (Balochistan) -এর কেচ জেলার টুরবাট শহরে থাকা ওই ইরানি জঙ্গির গোপন ঘাঁটিতে হামলা চালায় পাকিস্তানের সেনা। সেখানে উভয়পক্ষের গুলির লড়াইয়ের জেরে ওমর ইরানি ও তার দুই ছেলে খতম হলেও পাক সেনার কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। সেনাবাহিনীর তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানি সেনাদের খুন ও সাধারণ নাগরিকদের অপহরণ-সহ বিভিন্ন অপরাধের কারণে তেহরান ওমনকে গ্রেপ্তার করতে চাইছিল। ১৭ তারিখ টুরবাট শহরে তাদের গ্রেপ্তার করতে গেলে গুলির লড়াই হয়। এর ফলে তাদের মৃত্যু হয়েছে।





