গত সোমবার ভোর রাতে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী ভারত-চীন সীমান্তে সংঘর্ষের পরই গোটা দেশে আওয়াজ উঠেছে ‘বয়কট চায়না’। অর্থাৎ চীনা পণ্য ব্যবহার করব না। কেন্দ্রীয় সরকারের ইঙ্গিত সামরিক অভিযানে নয়, ব্যাবসায়িক দিক থেকে মারবো চীনকে! কিন্তু, সত্যিই কি শি জিনপিংয়ের দেশকে বয়কট করা সম্ভব? অর্থনৈতিক দিক থেকে প্রতিশোধ নেওয়া যাবে ২০ জওয়ানের মৃত্যুর?
বর্তমানে জিডিপির হিসাবে বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা অর্থনীতির দেশ হল এশিয়া শ্রেষ্ঠ চীন। ২০০৮ সালে বিশ্বজুড়ে যে মন্দা দেখা দিয়েছিল, তারপর থেকে দারুণ গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে বেজিং-এর অর্থনীতি। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশই এই অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ভাগ পেতে গত কয়েক বছরে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করেছে। ভারতও তার ব্যতিক্রম নয়।
সরকারিভাবে, ভারতে চীনের মোট এফডিআই বা সরাসরি বিনিয়োগ এখন ২.৩ বিলিয়ন ডলার বা ১৭৫৪৭ কোটি টাকারও বেশি। তবে এছাড়াও পরিকাঠামোগত প্রকল্পে কর্পোরেট বিনিয়োগ ও ঘুরপথে বিনিয়োগ রয়েছে। এরসঙ্গে প্রতিবছর চিনা পর্যটকদের হাত ধরে আসে অতিরিক্ত ৫৫০ মিলিয়ন ডলার বা ৪১৯৬ কোটি টাকা।
পেটিএম, ওলা, স্ন্যাপডিল বা সুইগি-র মতো ভারতীয় স্টার্টআপ সংস্থাগুলিতে বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে চীনা সংস্থা আলিবাবা, শাওমি, টেনসেন্ট, চিন-ইউরেশিয়া ইকোনমিক কোঅপরেশন ফান্ড, দিদি চুকসিং, শুনউই ক্যাপিটাল বা ফোসুন ক্যাপিটালের। ভারতের স্মার্টফোন বাজারের ৫১ শতাংশ রয়েছে চীনা সংস্থাগুলির হাতে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ২০১৮ সালে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৫৭.৮৬ বিলিয়ন ডলারের। আবার ৫ জি প্রযুক্তির ক্ষেত্রে চীনা প্রযুক্তি সংস্থা হুয়ায়েই-কে পরীক্ষামূলক পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে ভারত সরকার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ বারণ করেছিল। মোদী সরকার শোনেনি।
ফলে বোঝাই যাচ্ছে, ভারতীয় অর্থনীতির মজ্জায় ঢুকে গিয়েছে চীন। খুব সহজে এই নির্ভরতা কাটানো সম্ভব নয় ভারতের পক্ষে।





