একটি অন্ধকার সুড়ঙ্গে মাটি খুঁড়ছেন এক শীর্ণকায় যুবক। মুখে শুধুই অসহায়তা আর হতাশা। তার হাতে একটি বেলচা। অস্পষ্টভাবে বলতে শোনা যাচ্ছে— “আমি এখন নিজের কবর খুঁড়ছি।” এই দৃশ্য যে কোনও সহানুভূতিশীল মানুষকে নাড়া দেবে। সম্প্রতি এমনই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যা ঘিরে উত্তাল ইজ়রায়েল। ভিডিওটি সামনে আসতেই দেশের মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
ভিডিওতে যে যুবককে দেখা যাচ্ছে, তাঁর পরিচয়— এভিয়েটর ডেভিড। দুর্বল শরীর, বেরিয়ে আসা পাঁজর, আর রীতিমতো অনাহারক্লিষ্ট মুখাবয়ব বলছে, কতটা অমানবিক অবস্থায় তাঁকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। হামাসের তৈরি এক সংকীর্ণ সুড়ঙ্গে তিনি বন্দি। মাত্র তিন ফুট চওড়া ও ছ’ফুট উচ্চতা সেই গুহা যেন মৃত্যুকূপেরই প্রতিরূপ। সেখানেই বসে ক্রমাগত মাটি খুঁড়ে চলেছেন ডেভিড, মাঝেমধ্যে হাঁপিয়ে পড়ে বসে পড়ছেন।
ভিডিওতে ডেভিড বলছেন, “প্রতিদিন একটু একটু করে দুর্বল হয়ে পড়ছি। এটাই মনে হচ্ছে আমার কবর। সময় কেটে যাচ্ছে, জানি না কবে মুক্তি পাব, কবে পরিবারের সঙ্গে ঘুমোতে পারব।” কথাগুলি বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এই ভিডিওর মাধ্যমে হামাস যে কেবল শারীরিক নয়, মানসিক চাপও তৈরি করতে চাইছে, তা বলছে ইজ়রায়েল প্রশাসন। একে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের’ কৌশল বলেই মনে করছে তারা।
এই নিয়ে দ্বিতীয় পণবন্দির ভিডিও প্রকাশ করল হামাস। এর আগেও এমনই একটি অনাহারক্লিষ্ট বন্দির ছবি সামনে এনেছিল তারা। সব মিলিয়ে হামাসের হাতে এখনও ৪৯ জন ইজ়রায়েলি পণবন্দি রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ভিডিওটি সামনে আসতেই দেশে ক্ষোভের ঢেউ। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ পণবন্দিদের পরিবার ও সাধারণ মানুষ। প্রশ্ন উঠছে, এত দিনেও কেন বন্দিদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি?
আরও পড়ুনঃ Bengal Tragedy: বাংলার বাড়ি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত, জলজমায় মৃত্যুর কোলে ৬ মাসের শিশু! জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজ়রায়েলে ভয়াবহ হামলা চালায় প্যালেস্টাইনের জঙ্গিগোষ্ঠী হামাস। বহু ইজ়রায়েলি ও বিদেশি নাগরিককে পণবন্দি করা হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে চলেছে লাগাতার সংঘর্ষ। বারবার আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যস্থতার চেষ্টা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এ অবস্থায় হামাসের তরফে প্রকাশিত প্রতিটি ভিডিও যেন নতুন করে আরও ক্ষত তৈরি করছে ইজ়রায়েলিদের মনে।





