বর্ষা এলেই আতঙ্ক ছড়ায় উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটি এলাকার দেবীনগরে। বছরের পর বছর ধরে একি ছবি, একি দুর্দশা। রাস্তা, বাড়ি, ঘর—সব ঢেকে যায় জমা জলে। ময়লার গন্ধ, সাপের উপদ্রব আর বিদ্যুৎ বিপদের আশঙ্কা—এই নিয়েই দিন কাটে এলাকাবাসীর। সেই চেনা দুর্দশার চিত্রই এবার পরিণত হল মর্মান্তিক এক ট্র্যাজেডিতে।
৬ মাসের একটি শিশুকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গিয়েছেন দেবীনগরের এক পরিবার। জানা গিয়েছে, ঘরের মধ্যে জল ঢুকে পড়েছিল। শিশুটি ঘুমের মধ্যে সেই জলে পড়ে যায়। ভেজা মেঝেতে পড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় সে। পরিবারের দাবি, পাকা বাড়ি থাকলে হয়তো এই মৃত্যু এড়ানো যেত। ঠাকুমা চোখের জল মুছতে মুছতে বলেন, “আমার নাতনি চলে গেল… পাকা বাড়ি থাকলে আজ বেঁচে থাকত।”
যে বাড়িতে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি এখনও কাঁচা। মাটির মেঝে, টিনের ছাউনি আর চারপাশে বাঁশ ও পলিথিনে ঘেরা বেড়া। ভিতরের জমা জলে শামুক-মাছ ভাসছে—এই অবস্থাতেই বাস করে গোটা পরিবার। আশপাশেই বেশ কয়েকটি পাকা বাড়ি তৈরি হয়েছে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে। কিন্তু ওই পরিবার এখনও প্রকল্পের ছোঁয়া পায়নি। প্রশ্ন উঠছে, কেন জনপ্রতিনিধিরা আগে থেকেই ব্যবস্থা নেননি?
১৩ নম্বর ওয়ার্ডের দেবীনগর এলাকায় এমন পরিস্থিতি বর্ষা এলেই দেখা যায়। বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাট ডুবে যায় জলে, ঘরে ঢুকে পড়ে পচা জল। বাসিন্দারা জানান, এই জল নেমে যেতে দিন কয়েক লেগে যায়। দুর্গন্ধ, নোংরা জলের কারণে শিশুদের অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। বিদ্যুৎ সংযোগ চালু থাকলে প্রাণ সংশয় হয়। দিনের পর দিন জল ঠেলে চলতে হচ্ছে মানুষকে।
আরও পড়ুনঃ Voter List Scam: তৃণমূল ভোটব্যাঙ্ক রক্ষায় বাংলাদেশিদের নাম তুলেছে? BJP-র চাঞ্চল্যকর অভিযোগে তোলপাড় রাজনীতি!
শিশুর মৃত্যুর পর কেটে গিয়েছে একদিনেরও বেশি সময়। কিন্তু এখনও হাঁটু জল জমে রয়েছে গোটা এলাকায়। স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মৃত্যুর পর ক্ষোভ আরও বেড়েছে। সবাই বলছেন—দেখতে দেখতেই মৃত্যু হল, অথচ কেউ আগাম কিছু ভাবল না। এবার অন্তত যেন সরকারের টনক নড়ে, আর কোনও পরিবার যেন এমন শোক না পায়।





