ভূস্বর্গের স্বপ্ন নিয়ে অনেকেই পাড়ি দেন কাশ্মীরের পথে। কেউ চান বরফে ঢাকা পাহাড়ে স্মৃতি তৈরি করতে, কেউ বা শ্বাস নেন মুক্ত বাতাসে। কিন্তু কখনও কখনও এই স্বপ্নযাত্রা ভয়ংকর দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। ইনদওরের এক পরিবার এমনই এক নিদারুণ অভিজ্ঞতার সাক্ষী, যা রক্ত আর কান্নায় মুছে দিয়েছে তাঁদের সব আনন্দ।
ছুটি কাটাতে গিয়ে হঠাৎ করেই সব ওলটপালট হয়ে যেতে পারে—এই অনুভূতিটা ভয়ানক। এক মুহূর্তে হেসে ছবি তোলা, পরের মুহূর্তে গুলি আর মৃত্যু। এমনই কিছু ঘটেছিল ইনদওরের সুশীল নাথানিয়ালের সঙ্গে। স্ত্রী জ়েনিফার তখনও বুঝে উঠতে পারেননি কী ঘটতে চলেছে। চোখের সামনে স্বামীকে হারানোর যন্ত্রণা যেন আজও বুক চিরে বয়ে যাচ্ছে তাঁর।
২২ এপ্রিলের সেই ভয়াল দিন এখনও ভুলতে পারেননি জেনিফার। বৈসরন উপত্যকায় স্বামীকে ঘিরে ধরে কলমা পড়তে বলে চার জঙ্গি। সুশীল খ্রিস্টান, কলমা পড়তে না পারায় গুলি করে খুন করা হয় তাঁকে। স্ত্রী এবং কন্যার চোখের সামনেই ঘটেছিল সেই নৃশংসতা। অপারেশন সিঁদুরের প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় সেনার পদক্ষেপে খুশি হলেও জ়েনিফারের দাবি, “ওই চার জন কোথায়? তারা মারা না গেলে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে না।”
কাশ্মীরের ওই জঙ্গিহানায় ২৫ পর্যটক এবং এক স্থানীয় বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছিল। এরপর ভারতীয় সেনা পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানের নয়টি জঙ্গি ঘাঁটিতে প্রত্যাঘাত করে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালায়। তবু জ়েনিফার চান, ঠিক যারা তাঁর স্বামীকে খুন করেছে, তাদের যেন খুঁজে বার করে কড়া শাস্তি দেওয়া হয়। তাঁর চোখে প্রতিশোধ নয়, এটি ন্যায়বিচার। তিনি বলেন, “ওরা যেভাবে নৃশংসভাবে খুন করেছে, তেমনই কড়া শাস্তি ওদের প্রাপ্য।”
আরও পড়ুনঃ Astrology : ১২ মে-র রাতে ঘটবে ভাগ্যের মহাপরিবর্তন! জ্যোতিষীরা বলছেন, ৩ রাশিগ জাতকের জীবনে আসতে চলেছে সুবর্ণ সুযোগ!
সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জ়েনিফার জানান, “সেনার ওপর আমার আস্থা রয়েছে। আশা করি, যাঁরা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে, তাঁদের প্রতিটি জনকে সেনা খুঁজে বার করবে।” ভারতের সাহসী প্রত্যাঘাতে তিনি গর্বিত হলেও মনে করিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধজয়ের থেকেও বড় প্রয়োজন ব্যক্তিগত ক্ষতগুলির উপযুক্ত বিচার। তাঁর কথায়, “ওরা চার জন যে করেছিল, কোনও জন্তুও তা করে না। আমি চাই, তাদের মৃত্যু হোক। তাহলেই শান্তি পাব।”





