সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের মনে এক ধরণের উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এর নেপথ্যে রয়েছে উপাসনাস্থলগুলিকে লক্ষ্য করে সংঘটিত একের পর এক হামলা। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ব্রিটেন— বিশ্বের নানা প্রান্তে হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলিতে এ ধরনের হামলার সংখ্যা ও তীব্রতা বেড়ে চলেছে বলে মনে করছেন প্রবাসী ভারতীয়রা।
এইবার নজরে এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্য। সেখানকার গ্রিনউড শহরে অবস্থিত বিএপিস স্বামী নারায়ণ মন্দিরে সম্প্রতি ঘটে গেল আরেকটি হামলার ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে খবর, এটি গত এক বছরের মধ্যে চতুর্থবার যখন এই মন্দিরকে নিশানা বানানো হল। প্রথমে খবর ছড়িয়ে পড়লেও ঠিক কী ঘটেছে, তা স্পষ্ট হয় হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশনের এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টের মাধ্যমে।
সংগঠনের শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, মন্দিরের দেয়ালে লেখা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ভারত বিরোধী স্লোগান। ফাউন্ডেশনের দাবি, হামলাকারীরা খলিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রবাসী হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিচ্ছে। তারা জানিয়েছে, একই শহরের এই মন্দিরে গত কয়েক মাসে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ চালানো হয়েছে, যা নিছক ভাঙচুর নয়, বরং সংগঠিত একটি পরিকল্পনার অংশ।
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত ভারতের কনস্যুলেট অফিস। এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া বার্তায় তারা লিখেছে— “ইন্ডিয়ানার বিএপিস স্বামী নারায়ণ মন্দিরে হামলা নিন্দনীয়। আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করেছি।” ভারতীয় দূতাবাসের এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
আরও পড়ুনঃ বাড়বে আয়, সঞ্চয়, সম্পত্তি! ২১ আগস্টের পরলক্ষ্মী নারায়ণ রাজযোগে উপকৃত হবেন এই ৩ রাশির জাতকরা
খলিস্তানি আন্দোলনের সূত্রপাত বহু আগে, দেশভাগ-পরবর্তী সময়ে। স্বাধীন সার্বভৌম ‘খলিস্তান’ রাষ্ট্রের দাবিতে ১৯৮০-এর দশকে সহিংসতা চরমে ওঠে, যার চূড়ান্ত রূপ ছিল ১৯৮৪ সালের অপারেশন ব্লু স্টার। সেই ইতিহাস আজও বর্তমান রাজনীতিতে প্রতিধ্বনিত হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কানাডায় খলিস্তানি নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের মৃত্যুর পর থেকে তার সমর্থকরা ভারত-বিরোধী কর্মসূচি তীব্র করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে এই ধরনের হামলা কেবল ধর্মীয় বিদ্বেষ নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার কৌশলও বটে।





