SIR: বিহারের পর এবার বাংলায় SIR! কমিশনের চিঠিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া রাজ্যের, আদালতেও উঠল প্রসঙ্গ!

রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল একটি শব্দ—এসআইআর (SIR)। বিহারে এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই জল্পনা ছড়ায়, পশ্চিমবঙ্গেও কি একই পথে হাঁটতে চলেছে নির্বাচন কমিশন? সাধারণ ভোটার থেকে রাজনৈতিক মহল—সবার নজর ছিল কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে। অবশেষে সেই জল্পনাতেই পড়ল ইতি।

গত ৮ অগস্ট নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারকে একটি চিঠি পাঠানো হয়। তাতে জানানো হয়, পশ্চিমবঙ্গেও শুরু হতে চলেছে ভোটার তালিকায় নিবিড় পরিমার্জন বা SIR। সুপ্রিম কোর্টে এই প্রসঙ্গ তুলেন রাজ্য সরকারের পক্ষের আইনজীবী গোপাল শঙ্কর নারায়ণ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজ্যের সঙ্গে আলোচনার আগেই কীভাবে এই প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। বিচারপতি সূর্যকান্তও মন্তব্য করেন, “পশ্চিমবঙ্গে এখনও SIR শুরু হয়নি।” তবে গোপালবাবুর দাবি, চিঠি পাওয়ার অর্থই হলো প্রস্তুতি কার্যত শুরু হয়ে যাওয়া।

শুনানি চলাকালীন কলকাতা হাইকোর্টের সামনে এক মহিলার গায়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টার ঘটনাও উঠে আসে, যা নাকি SIR-এর বিরোধিতার সঙ্গে যুক্ত। এই ঘটনা আদালতে উল্লেখ করেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, রাজ্যে এই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে বিচারপতি তাঁর বক্তব্য সেদিন শোনেননি এবং জানান, বাংলার প্রসঙ্গ বিস্তারিত আলোচনার জন্য আলাদা সময় দেওয়া হবে।

রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি নির্বাচনী মহলেও প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলেছে। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড হয়েছে ২০০২ সালের পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা। বিএলওদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়টিও প্রকাশ্যে এসেছে। কমিশনের তরফে রাজ্যের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল প্রস্তুতির অবস্থা। গত ৭ অগস্ট মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল কমিশনকে জানান, রাজ্য ভোটার লিস্টে নিবিড় পরিমার্জনের জন্য প্রস্তুত এবং জেলার তথ্য সংগ্রহ করে রিপোর্টও পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ Khalistani Attack in USA: গ্রিনউডে এক বছরের মধ্যে চতুর্থ হামলা! খলিস্তানিদের নিশানায় বিএপিস স্বামী নারায়ণ মন্দির, সরব ভারতীয় দূতাবাস!

সব মিলিয়ে স্পষ্ট, বিহারের পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও শুরু হতে চলেছে SIR। যদিও রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার অভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে, তবুও নির্বাচন কমিশনের চিঠি ও প্রস্তুতির ইঙ্গিত জানাচ্ছে—এই প্রক্রিয়া এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে নতুন করে তর্ক-বিতর্ক শুরু হলেও ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করাই যে এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য, তা কমিশন পরিষ্কার করেছে। আগামী দিনে এর প্রভাব রাজ্যের রাজনীতি ও ভোটার কাঠামোর ওপর কী পড়বে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।

RELATED Articles