বাংলাদেশে চরমপন্থিদের বাড়াবাড়ি, ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেওয়া হল হিন্দুদের বাড়িঘর

ফেসবুকে হজরত মহম্মদের ব্যঙ্গচিত্রকে সমর্থন করা পোস্টের গুজব নিয়ে উত্তেজনা ছড়ায় বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলায়। এর জেরেই হিন্দু পরিবারের উপর রীতিমতো তাণ্ডব চালায় সেখানকার চরমপন্থিরা। কয়েকটি হিন্দু পরিবাররের বাড়িঘর ভাঙচুর করে তা পরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।

হজরত মহম্মদের ক্যারিকেচার ছবি নিয়ে ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ-এর মন্তব্যের পরই অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো বাংলাদেশেও শুরু হয় বিক্ষোভ। ফ্রান্সে বসবাসকারী এক বাংলাদেশী ম্যাক্রোঁ-এড় এঈ পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তার সেই পোস্ট আবার সমর্থন করেন পূর্ব ধুর এলাকার একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ওই এলাকারই এক ব্যক্তি। কিন্তু এলাকায় রটে যায় যে, তারা নাকি হজরত মহম্মদের ব্যঙ্গচিত্রকেদ সমর্থন করেছেন। এই নিয়েই গত শনিবার চাঞ্চল্য ছড়ায় ওই এলাকায়।

https://twitter.com/imrjoy/status/1323115749364310017?s=20

এরপর ধর্মীয় ভাবাবেগকে আঘাত করার অভিযোগে রবিবার পুলিশ ওই প্রধান শিক্ষক ও ওই দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। এদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশী পুলিশ ডিজিটাল সুরক্ষা আইনের অধীনে মামলা রুজু করে। আদালতও তাদের জামিন খারিজ করে দেয়। প্রধান শিক্ষক ও ওই দুই ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানা গিয়েছে।

এরপরই রবিবার রাতে হঠাৎই ওই দুই ব্যক্তির বাড়িতে হামলা চালায় চরমপন্থি মুসলিমরা। ওই দুই ব্যক্তির বাড়ি-সহ কুমিল্লার আন্দিকোট ও কুরবানপুর গ্রামেরার বেশ কিছু হিন্দু বাড়িতেও ভাঙচুর ও লুঠপাট করা হয়। শেষে বাড়িগুলিতে আগুন ধরিয়ে দিতেও কসুর করেনি ওই চরমপন্থির দল। কিন্তু এই হামলাকারীদের একজনকেও এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি বা তাদের বিরুদ্ধে কোনও মামলাও দায়ের করেনি পুলিশ।

যদিও কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, হামলা হওয়া এলাকাগুলি আপাতত নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। পুলিশ সুপার সেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন পদক্ষেপ নেবে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই ঘটনায় যুক্ত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।

RELATED Articles