উল্টো চাপ! নিজেকে বাঁচাতে আরএসএসকে ‘হিংসাত্মক চরমপন্থী’ তকমা, রাষ্ট্রসংঘে আরএসএসকে নিষিদ্ধের দাবী ইমরান সরকারের

দিনদিন সবদিক থেকেই কোণঠাসা হচ্ছে পাকিস্তান। অর্থনৈতিক দিক থেকে একেবারেই মুখ থুবড়ে পড়েছে ইমরানের সরকার। ‘বন্ধু’ চীনও মুখ ফিরিয়েছে তাদের দিক থেকে। এবার নিজেদের দিকে উঠা আঙুলকে নামাতে তৎপর ইমরানের দেশ। এ কারণে ভারতের উপর চাপ দিতে শুরু করল পাকিস্তান। ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স-এর ধূসর তালিকা থেকে তারা কবে বেরোবে বা আদৌ বেরোতে পারবে কী না, এ নিয়ে উত্তেজনা রয়েছে। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংস্থা বা আরএসএসকে ‘হিংসাত্মক চরমপন্থী’ বলে তোপ দাগল ইমরান সরকার। এমনকি, তা যাতে নিষিদ্ধ হয়, এমন দাবীও করল তারা।

জাতীয়তাবাদী দলগুলিকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব, এ নিয়ে গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রসংঘে নিজের মত পেশ করেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মুনির আক্রম। এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়েই তিনি আরএসএসকে আক্রমণ করেন। তাঁর দাবী, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য আরএসএস বেশ বিপজ্জনক। এরপর আরএসএসকে হিংসাত্মক মৌলবাদী ও চরমপন্থী দাবী করে তিনি বলেন এমন দলের জন্যই সন্ত্রাসবাদের জন্ম হয়। এই ধরণের সংগঠনই আল কায়দার মতো জঙ্গি সংগঠনকে প্রশ্রয় দেয় বলে দাবী তোলেন তিনি।

বিজেপি দাগতেও কসুর করেননি তিনি। তাঁর দাবী, বিজেপির হিন্দুত্ববাদী আদর্শের জন্যই ভারতীয় মুসলিমদের জীবন নাকি বিপন্ন। তাঁর আরও দাবী, শুধু আল কায়দার মতো জঙ্গি সংগঠনই নয়, শ্বেতাঙ্গ ও অন্যান্য মৌলবাদী সংগঠনগুলিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে, তবেই মৌলবাদকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে তাঁর দাবী।

মুনির আক্রমের এই মতবাদ থেকে স্পষ্ট যে নিজেদের দিকে ওঠা আঙুলকে কার্যত জবাব দিতে নতুন চাল চালছে পাকিস্তান। ধূসর তালিকা থেকে বেরোতে হলে যে সন্ত্রাস দমন করতেই হবে, তা ভালোই বুঝতে পেরেছে তারা। এই কারণেই নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষা ফেরাতে উঠেপড়ে লেগেছে পাকিস্তান। ইতিমধ্যেই সাজা ঘোষণা করা হয়েছে লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ কমান্ডার জাকিউর রহমান লাকভিকে। অন্য এক কুখ্যাত জঙ্গি মাসুদ আজহারকে গ্রেফতার করতেও উদ্যত হয়েছে তারা।

RELATED Articles