ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক বরাবরই জটিল ও সংবেদনশীল। সামান্য ঘটনাও সেখানে বড়সড় কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের রূপ নেয়। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ থেকে শুরু করে একের পর এক যুদ্ধ, সীমান্তে সংঘর্ষ— এই ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক কতটা স্পর্শকাতর। সম্প্রতি এমনই এক পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে কাশ্মীর সংলগ্ন একটি অঞ্চল নিয়ে তৈরি উত্তেজনা, যা আন্তর্জাতিক স্তরেও ছড়িয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক স্তরে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে রাষ্ট্রপুঞ্জের মতো সংগঠনের হস্তক্ষেপ অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই পটভূমিতে সোমবার রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে একটি বিশেষ বৈঠক হয়। তবে সাধারণ মানুষ যখন আশায় ছিলেন কোনও সুস্পষ্ট বার্তা বা সমাধান উঠে আসবে বৈঠক থেকে, তখন দেখা গেল বৈঠকের শেষে বেরিয়ে এল না কোনও যৌথ বিবৃতি, রইল না কোনও ঘোষণা। পরিস্থিতি যেন আরও জটিল ও রহস্যময় হয়ে উঠল।
জানা গিয়েছে, এই বৈঠকটির সময়কাল ছিল প্রায় দেড় ঘণ্টা। পাকিস্তানের অনুরোধেই এই আলোচনার সূচি নির্ধারণ করে নিরাপত্তা পরিষদ। বর্তমানে পাকিস্তান রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য এবং চলতি মাসে সভাপতিত্ব করছে গ্রিস। মূলত পহেলগাঁও হামলা ও তার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হয়। তবে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পরও কোনও দেশের রাষ্ট্রদূত এই বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি।
এই বৈঠকের আগেই ভারতের তরফে রাষ্ট্রপুঞ্জে নিযুক্ত স্থায়ী প্রতিনিধি সৈয়দ আকবরউদ্দিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এমন ধরণের বৈঠক থেকে কোনও সুনির্দিষ্ট ফলাফল আশা করা উচিত নয়। তাঁর কথায়, “যেখানে একপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি তৈরি করতে চায়, সেখানে যুক্তি বা বাস্তবতার জায়গা থাকে না।” তিনি মূলত পাকিস্তানের দিকেই ইঙ্গিত করে এই মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুনঃ Mock drill : সাইরেন বাজবে, আলো নিভে যাবে! ৭ মে রাতে গোটা দেশে কীসের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার?
সূত্রের খবর, বৈঠকে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি অসীম ইফতিখার আহমেদ বারবার পহেলগাঁও ইস্যুকে কাশ্মীর সমস্যার সঙ্গে জড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করেন। তিনি ভারতীয় সেনার ভূমিকাকে কাঠগড়ায় তোলেন এবং ভারতের সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে ‘আগ্রাসী মনোভাব’ বলে কটাক্ষ করেন। তবে শেষ পর্যন্ত কোনও সমাধান বা সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়, যা শুধু দুদেশের সম্পর্কেই নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।





