রাত হঠাৎ নিস্তব্ধ হয়ে যাবে। এক মুহূর্তে থেমে যাবে শহরের কোলাহল। চারদিক নিভে অন্ধকার হয়ে গেলে আপনি কি জানেন কী করতে হবে? কিংবা যদি হঠাৎ কোনও সাইরেন বেজে ওঠে, তখন মাথা ঠাণ্ডা রেখে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত? এই প্রশ্নগুলো অনেকের মাথায় ঘোরাফেরা করছে এখন, কারণ দেশজুড়ে শুরু হতে চলেছে এক অভিনব প্রস্তুতি – যার ঝলক মিলবে আগামী ৭ মে।
এটা কোনও সিনেমার দৃশ্য নয়, বা নিছক কোনও রিহার্সালও নয়। এই বিশেষ মহড়ার নেপথ্যে রয়েছে সম্ভাব্য বিপদের সতর্কতা ও নিরাপত্তার বার্তা। আজকের প্রযুক্তি নির্ভর যুগে আমরা হয়তো যুদ্ধের ভয়টাকে ভুলতে বসেছি। কিন্তু সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনা আবার সেই স্মৃতি ফিরিয়ে দিচ্ছে। আর সেই কারণেই কেন্দ্রীয় সরকার এমন এক মহড়ার আয়োজন করছে যা একদিকে যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনই বাস্তবতা নির্ভর।
গত ১১ দিন ধরে সীমান্তে পাকিস্তানের গুলিবর্ষণে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। সেই আবহেই রবিবার থেকে পরপর বৈঠক করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রতিরক্ষা সচিব, নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে দেশের প্রতিটি রাজ্যে পৌঁছে গিয়েছে বিশেষ বার্তা। আগামী ৭ মে, বুধবার, দেশের ২৪৪টি জেলায় হবে ‘মক ড্রিল’ (Mock Drill) – অর্থাৎ যুদ্ধ বা বিপর্যয় পরিস্থিতির জন্য একধরনের অনুশীলনী মহড়া। এই মহড়ায় অংশ নেবে রাজ্য প্রশাসন, এনসিসি, নেহরু যুব কেন্দ্র সংগঠন সহ একাধিক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান।
এই মক ড্রিলে সারা দেশে বাজবে এয়ার রেড সাইরেন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলিতে হঠাৎ নিভিয়ে দেওয়া হবে সব আলো। অন্ধকারে কীভাবে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে বের করতে হয়, তা শেখানো হবে স্কুল, অফিস ও কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত বিশেষ ওয়ার্কশপে। মাথা ঠাণ্ডা রেখে কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে, কিংবা যদি আহত হন, তাহলে প্রাথমিক চিকিৎসা কীভাবে করবেন – তা হাতে-কলমে শেখানো হবে সাধারণ মানুষকে।
৭১ সালের ভারত-পাক যুদ্ধের সময় যেভাবে শহর ঢেকে দেওয়া হয়েছিল শত্রুপক্ষের নজর এড়াতে, এবারও সেই কৌশলই নেওয়া হবে। মিলিটারি বেস, পাওয়ার প্ল্যান্ট, গুরুত্বপূর্ণ বিল্ডিং ঢেকে দেওয়া হবে যাতে স্যাটেলাইটে ধরা না পড়ে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে উদ্ধার অভিযান চালানোর মহড়া হবে – কীভাবে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিতভাবে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয়, দ্রুত অ্যাকশন নিতে হয় – তা শেখানো হবে।
আরও পড়ুনঃ Weather update: আরামের দিন শেষ ! সপ্তাহান্তে চড়চড়িয়ে তাপমাত্রা বাড়ার পূর্বাভাস! কি বলছে আবহাওয়া দপ্তর?
১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর এই প্রথমবার এত বড় পরিসরে গোটা দেশে এমন মহড়ার আয়োজন করা হচ্ছে। এই মক ড্রিল শুধু একটি নিয়মরক্ষার প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি দেশের প্রতিটি নাগরিককে বিপদের সময়ে মাথা ঠাণ্ডা রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শেখানোর উদ্যোগ। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এমন পরিকল্পনা – এমনটাই জানাচ্ছে কেন্দ্র। ৭ মে ঠিক কতটা প্রস্তুত দেশ, তা দেখাবে এই মক ড্রিল।





